ফুটবল দিয়ে মুক্তি খুঁজছেন মরক্কোর কারাবন্দীরা

মরক্কোর কাসাব্লাংকা একটি জেলখানার গেটের উপরে একটি ব্যানারে লেখা আছে “আফ্রিকা ফরেভার”। এই জেলখানায় রাখা হয় কম বয়সী অপরাধীদের। মরক্কোতে আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপের সাথে টমেডেমে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে কাসাব্লাংকার এই কারাগার।

২৯ বছর বয়সী আব্দের রাহমান খুনের দায়ে খাটছিল ১০ বছরের শাস্তি। সে তার হাজতের অন্যান্য শাস্তিভোগীদের সাথে এই ফুটবল প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়।মরক্কোর নাগরিক এই যুবক লাল শার্ট গায়ে পরে ফুটবল খেলতে পেরে আনন্দিত। সে জানায়, এই অভিজ্ঞতায় সে যেন মুক্তির স্বাদ পেয়েছে।

মরক্কোর অনুতাপ সেবার এক কর্মকর্তা বেনাসের বেন্নেসা জানান, কাসাব্লাংকার আউকাচা নামক কারাগারে আয়োজিত এই ফুটবলের ছোট্ট আসরে ১০০ জনেরও বেশি হাজতবাসী অংশগ্রহণ করেছে।

এরকম আয়োজন মরক্কোতে এইবারই প্রথম। আফ্রিকা নেশন্স কাপ এ আসন্ন মরক্কো-নাইজেরিয়া ফাইনালের উদযাপনের লক্ষে ৪টি কারাগারের বন্দীদের নিয়ে আসা হয় কাসাব্লাংকায়। বেন্নেসা জানান, “আমরা তাদের খেলার ধরন হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম নক-আউট, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনাল।তাছাড়া তৃতীয় স্থান নির্ধারনী একটি ম্যাচের ব্যবস্থাও ছিলো”।

খেলা চলাকালে কারাগারের অন্য বন্দিরাও সেখানে অংশ নিয়েছিল উৎসাহের সঙ্গে। গোল হওয়ার সাথে সাথে তারা উল্লাসে মেতেছে, ড্রাম এর তালে তালে উদযাপন করেছে। কারাগারের দেয়ালের উপরের তারকাটার উপরে শোভা পাচ্ছিলো আফ্রিকার ১২টি দেশের পতাকা।

মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন এবং কারাগারের কর্মকর্তাদের জন্য একটি উচু বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছিলো। তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ এ মুখোমুখী হয়েছিলো ক্যামেরুন এবং মালির বন্দিরা। ৩০ মিনিটের এই ম্যাচে বিজয়ী হয় ক্যামেরুন।

ক্যামেরুনের গোলরক্ষক ফ্রান্সিস মুখে এক টুকরো হাসি নিয়ে বলেন, “আমরা ফাইনালে খেলতে পারলে বেশ হতো কিন্তু আমরা তা অর্জন করতে সক্ষম হইনি।তবে এই ছোট্ট ফাইনালটি জিতেও আমরা কম খুশি নই”। ফ্রান্সিস মাতাল অবস্থায় মারামারি করার দায়ে এক বছরের সাজা পেয়ে বন্দি রয়েছে।

এই আয়োজনের সুবাদে  জানা যায়, মরক্কোর ৭৭ টি কারাগারের প্রায় ৭৫,০০০ বন্দিকে আটক রাখা হয়েছে, যা সেগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেকখানি বেশি। আউকাচা কারাগারের বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৫,৮০০ জন হলেও সেখানে বর্তমানে বন্দি আছেন ৮,০০০ জনেরও বেশি।

এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের খেলায় অংশ নেয় মরক্কো এবং গিনি। মরক্কোতেই খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় তারা দর্শকের করতালি পেয়েছে অনেক বেশি। বুকে হাত রেখে সবাই মিলে গাইলো মরক্কোর জাতীয় সংগীত।

দর্শকের আনন্দ আরেক ধাপ বেড়ে গেলো যখন ম্যাচ শেষে বিজয় ছিনিয়ে নিলো মরক্কোর বন্দিদের ফুটবল দলটি। তাদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দিয়েছেন তুনিশিয়ার সাবেক ফুটবল তারকা আডেল চ্যাডলী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*