রাশিয়া বিশ্বকাপে আসছে পাকিস্তানে তৈরি ফুটবল

২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আনন্দের শেষ নেই। ফুটবলের র‍্যাংকিং এ ১৯৮তম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানীরা সরাসরি বিশ্বকাপের খেলায় অংশ নিতে না পারলেও তাদের  জন্য এই আনন্দের ভাগ আরো একটু বেড়ে গেলো যেন।

বিশ্বকাপের এবারের আসরের খেলাগুলোয় ব্যবহৃত হবে পাকিস্তানে তৈরি বিখ্যাত ফুটবল। তাই ২০০ মিলিয়ন পাকিস্তানী নাগরিক যেন নিজেদের সরাসরি বিশ্বকাপ অংশগ্রহনের আনন্দই পাচ্ছেন।

পাকিস্তানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সি দিদভ এ সপ্তাহের শুরুতে নিশ্চিত করেছেন যে রাশিয়ার বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হবে পাকিস্তানের বল।

ফুটবলটি বানানো হবে পাকিস্তানের শিয়ালকট শহরের “ফরওয়ার্ড স্পোর্টস” নামের একটি স্থানীয় ক্রীড়া সামগ্রী নির্মানের কারখানায়। এই কারখানায় বিখ্যাত ব্র্যান্ড এডিডাস তাদের বিভিন্ন ফরমায়েশের কাজ করিয়ে থাকে। সময়মতো বিশ্বকাপের বলগুলো হস্তান্তর করার জন্য কারখানার কর্মীরা দিনের নির্দিষ্ট সময়ের চেয়েও বেশি সময় ধরে কাজ করছে।

ভারতের সীমান্তের সাথে লাগোয়া এই শহর তাদের চমৎকার ক্রীড়া সামগ্রী তৈরির জন্য বিখ্যাত। বিভিন্ন বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য অনেক আগে থেকে তারা ফুটবল সরবরাহ করে আসছে।

ফরওয়ার্ড স্পোর্টস জার্মানীর বুন্দেসলিগা, ফ্রান্সের লিগ ওয়ান এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ফুটবল সরবরাহ করে। তাদের তৈরি বল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ব্যবহৃত হয়েছিলো।

এই কোম্পানীর চেয়ারম্যান খাওজা মাসুদ বলেন, “আমরা আরো একবার বিশ্বকাপের ফুটবলের সরবরাহকারী হতে পেরে সত্যিই গর্বিত। নতুন এই চ্যালেঞ্জ আমরা আগ্রহের সাথে মোকাবেলা করবো”।

এডিডাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বকাপে তারা ঠিক কতটি বল সরবরাহ করছে তা জানা যায়নি। তবে খাওজা জানান, তার কোম্পানি প্রতি মাসে ৭ লাখ বল বানিয়ে থাকে।

এই বিশ্বকাপেও ব্যবহার করা হচ্ছে থার্মো বন্ডেড ফুটবল। নতুন উপায়ে তৈরি এই বলগুলো সর্বপ্রথম ব্যবহৃত হয়েছিলো ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। তার আগে পাকিস্তান হাতে সেলাই করা ফুটবল সরবরাহ করতো। ১৯৯০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় সব বিশ্বকাপেই এই হাতে সেলাই করা ফুটবল সরবরাহ করেছে দেশটি।

থার্মো বন্ডেড বলগুলো মূলত তাপ দিয়ে জোড়া লাগানো বল। এই প্রযুক্তি এডিডাস গ্রহণ করে এবং ২০১৩ সালে ফরওয়ার্ড স্পোর্টস-এর হাতে তুলে দেয়।

খাওজা মাসুদ আরো বলেন, “যদিও পাকিস্তানের ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেনা, তবুও আমাদের এই ফুটবলের কারণে আমরা সেখানে উপস্থিতির অনুভূতি পাবো”।

পাকিস্তানের ক্রীড়া সামগ্রী এসোসিয়েশনের সভাপতি হুসনাইন চীমা জানান, এ বছর পৃথিবীজুড়ে পাকিস্তান ১০ মিলিয়নেরও বেশি ফুটবল রপ্তানী করবে।

ক্রীড়া পণ্য রপ্তানী করে পাকিস্তান বছরে ১ বিলিয়ন ডলার অর্জন করে থাকে। এর মধ্যে ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারই আসে ফুটবল রপ্তানী থেকে।

দেশটির জমজমাট ফুটবল শিল্পকে ৯০-এর দশকে শিশুশ্রমের দায়ে অভিযুক্ত করেছিলো আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থা। তারা অভিযোগ করে যে, পাকিস্তানে ফুটবল সেলাই করার কাজে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক শিশুদের।

বিখ্যাত স্পোর্টস কোম্পানী নাইকিও ২০০৬ সালে এই অভিযোগের কারণে তাদের অর্ডার বাতিল করে নিতে বাধ্য হয়।

তবে সিলভার স্পোর্টস কোম্পানী নামের এক কোম্পানী, যাদের কাছ থেকে মূলত নাইকি পণ্য কিনতো, জানায় যে এ ধরণের অভিযোগ সত্যিকার অর্থে বাড়িয়ে বলা ছাড়া আর কিছুই না। কিছু ছোট কোম্পানী এবং ঘরোয়া কোম্পানীতে হয়তো শিশু শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হতো, কিন্তু বড় কোম্পানীগুলোতে এরকম কিছু হয়না বলে জানিয়েছিলেন ঐ কোম্পানীর নির্বাহী সঞ্চালক শাইখ জাহাঙ্গীর ইকবাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *