জলবায়ু পরিবর্তন: বাংলাদেশে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

বৈশ্বিক এক গবেষনা প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরি আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে বেশ কয়েকটি দেশ। যেখানে আছে বাংলাদেশ ও ভারতের নামও। জানা গেছে আউটলুকের প্রতিবেদন থেকে।

যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষনায় কোন দেশগুলো খাদ্য সমস্যায় পড়তে পারে তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই গবেষনার ক্ষেত্রে ১২২টি উন্নয়নশীল এবং স্বল্প উন্নত দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ দেশগুলোই এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিন আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত।

বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রাক শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে যে দেশগুলো খাদ্য সংকটে পড়তে পারে তার মধ্যে আছে ওমান, ভারত, বাংলাদেশ, সৌদি আরব ও ব্রাজিল- এমনটাই জানিয়েছেন গবেষকেরা।

এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড বেটস বলেন, “আসন্ন দিনগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত ও খরা, দুটিই বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের একেক স্থানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একেক ধরনের হবে। এই ধরনের তীব্র আবহাওয়ার ফলে তীব্র খাদ্য সংকটও সৃষ্টি হতে পারে”।

তিনি আরো বলেন, “কিছু পরিবর্তন আসলে থামানো সম্ভব নয়, কিন্তু বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি কোনভাবে দমিয়ে ১.৫ ডিগ্রীর ভিতরে রাখা সম্ভব হয়, তাহলে শতকরা ৭৬ ভাগ দেশ এই ভোগান্তির শিকার হবেনা”।

গবেষকেরা জানান, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম। আর কিছু এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী খরা পরিস্থিতি তৈরি হবে।

বন্যা পরিস্থিতির উপস্থিতি দেখা যেতে পারে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা যদি ২ ডিগ্রী বৃদ্ধি পায় তাহলে গঙ্গার প্রবাহ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ভারত ও বাংলাদেশে চার বা পাচদিন দীর্ঘ বন্যা হতে পারে, যা ফসল বিনষ্ট করে দিতে যথেষ্ট।

খরার হুমকিতে থাকা দেশগুলোর মাঝে রয়েছে দক্ষিন আফ্রিকা এবং দক্ষিন আমেরিকান দেশগুলো। এই অঞ্চলে অ্যামাজন নদী ২৫% হ্রাস পেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *