আইসল্যান্ডের ইতিহাসে পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন মাত্র একজন!

আইসল্যান্ড নামটা উচ্চারিত হচ্ছে বেশ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেই তাঁরা চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে অনেকের। ছোট্ট এই দ্বীপটির সামাজিক রীতি-নীতিও চোখ ধাঁধানো।


———————————————————————–
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে অদ্ভুত ধরণের একটা সংবাদ শিরোনাম দেখেছিল আইসল্যান্ডবাসী। ‘পুলিশের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত’। সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিল আইসল্যান্ডের মানুষ। কারণ ১৯৪৪ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর এমন ঘটনা ঘটেছিল সেবারই প্রথমবারের মতো

আইসল্যান্ডিক ন্যাশনাল ব্রডকাস্ট সার্ভিসের নিউজ এডিটর Thora Arnorsdottir বলেছিলেন, ‘পুরো দেশ থমকে গিয়েছিল। এমনটা আমাদের দেশে কখনো ঘটেনি।’ সেই ঘটনায় শোক পালন করা হয়েছিল জাতীয়ভাবে।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছিলেন ৫৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। পত্রপত্রিকার খবরে জানা যায়, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। পুলিশকে নিজের বাড়িতে ঢুকতে দেখে তিনিই আগে গুলি চালিয়েছিলেন। পরে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে তিনি নিহত হন। সেই ব্যক্তির প্রতিবেশীরা এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, তাঁরা যেন হলিউডের কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্য দেখছেন। কারণ এমন দৃশ্য তাঁরা শুধু টেলিভিশনের পর্দাতেই দেখে অভ্যস্ত। তারপর থেকে এমন ঘটনা আর কখনো ঘটেওনি। সেটাই প্রথম, সেটাই শেষ।

ছোট্ট দেশ আইসল্যান্ডে সহিংস ঘটনা সেভাবে ঘটেনা বললেই চলে। পুলিশও সাধারণত নিজেদের কাছে কোনো অস্ত্র রাখে না। Arnorsdottir বলছিলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা চাই না যে, পুলিশ কোনো অস্ত্র বহন করুক। কারণ এটা বিপদজনক। এটা অন্যদের জন্য হুমকির কারণ। এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ না। বন্দুক অনেকে ব্যবহার করে শিকারের জন্য। কিন্তু এছাড়া আপনি কোথাও বন্দুক দেখবেন না।’

সেদিনের সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের পরবর্তীতে যেতে হয়েছিল মনোবিদদের কাছে। অনুশোচনা করার জন্য। পুলিশ বিভাগ সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষমা চেয়েছিল মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে। এত কিছু তারা করেছিল এটা জেনেও যে, তারা কোনো দোষ করেনি।

কেন এত বিচলিত হয়ে গিয়েছিল দেশটির পুলিশ সদস্যরা? কারণটা জানিয়েছেন Arnorsdottir, ‘এটা শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়। কারণ এখানে কেউই আরেকজন ব্যক্তির প্রাণ হরণ করতে চায় না।’

কেন পুলিশ গুলিতে নিহত সেই মানুষটির অনুমতি না নিয়েই তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেছিল- এ নিয়েও আলাপ উঠেছিল বিস্তর। হয়েছিল তর্ক-বিতর্ক। কেন পুলিশ সেটা করেনি, তেমন একটা অনুমানও দাঁড় করিয়েছেন Arnorsdottir। যা থেকে দেশটির স্বাধীনতা চর্চার পরিধি সম্পর্কেও একটা ভালো ধারণা পাওয়া যায়।

তিনি বলেছিলেন, ‘এই দেশে থাকার একটা দারুণ মজার ব্যাপার হলো আপনি যে কোনো জায়গায় যেতে পারবেন। এমনকি পার্লামেন্টেও। সেখানে ঢোকার সময় আপনাকে শুধু একটা ছোট্ট অনুরোধ করা হবে। মোবাইলটা বন্ধ করা। যেন সংসদ সদস্যদের কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। আমাদের এখানে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট সবসময় সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে ঘোরেন না। শান্তির এই সমাজে এটা একটা দারুণ ব্যাপার। আমরা এটা পরিবর্তন করতে চাই না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *