একই সঙ্গে দুজনের সঙ্গে প্রেম করছেন যে নারী

স্কটল্যান্ডের উত্তর বারউইকের ননি নামের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী জানালেন, তিনি একজন বহুগামী নারী। মাত্র একজন সঙ্গীর সাথে জীবন কাটানোর ধারণায় তিনি নিজেকে বন্দী মনে করতেন। যেন তাঁর দম আটকে আসত। কোন একজন সঙ্গীকে যতই ভালোবাসুক না কেন, মাত্র একজন সঙ্গী যেন ঠিক মন ভরানোর মত নয়।

ননি অবশ্য একজন জীবনসঙ্গী থাকার বিপক্ষে নন। বহুগামীতা কেবলই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “ভালোবাসা কেন সীমাবদ্ধ হতে হবে তা আমি বুঝিনা। আমি লোভী, মানুষের পছন্দের পাত্রী হতে আমার খুব ভালো লাগে।“

ননি বহুগামী হলেও তার কিছু “নৈতিক” বিষয় রয়েছে, যেগুলো তিনি মেনে চলেন। তার প্রত্যেকটি সম্পর্কই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ননি একাধারে প্রেম করছেন ২৭ বছর বয়সী মরগ্যান এবং ২৪ বছর বয়সী অলিভারের সাথে।

মরগ্যানের সাথে ননির দুই বছর আগে পরিচয় হয়েছিলো জনপ্রিয় অনলাইন ডেটিং এর অ্যাপ টিন্ডারের মাধ্যমে। সেই সময় তিনি ডান্ডিতে বসবাস করতেন। ননির সাথে প্রেমে জড়ানোর সময় মরগ্যানের ৪ বছরের পুরাতন প্রেমিকা হ্যানির সাথেও সম্পর্ক চলছিলো। তখন থেকে এখন পর্যন্ত তারা একই সাথে প্রেম করে যাচ্ছেন। মরগ্যান বলেন, “হ্যানিই প্রথম আমাকে বহুগামীতার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছিলো। যখন আমি এটি অন্য কাউকে বলি, তারা শুনে চমকে যায়। কারণ প্রচলিত ধারনা অনুযায়ী বহুগামীতা হলো একটি পুরুষতান্ত্রিক পন্থা। অনেকে মনে করেন এই ধরনের সম্পর্কে মূলত যৌনতাই প্রধান। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে যৌনতার চেয়ে পরষ্পরের মাঝে যোগাযোগটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ”।

ননি জানান মরগ্যান “আবেগী যোগাযোগ” রক্ষায় বেশ দক্ষ। তাই এডিনবার্গে নাট্যকলা নিয়ে পড়াশোনা করতে চলে গেলেও তাদের সম্পর্কের একটুও হানি ঘটেনি। মরগ্যান জানান, হ্যানি বর্তমানে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে নেই। সে তার এবং ননির সম্পর্কের বিষয়ে বেশ খুশি।

অলিভার হলেন মরগ্যানের “মেটা”। বহুগামীতার ক্ষেত্রে মেটা শব্দটি ব্যবহৃত হয় নিজের সঙ্গিনীর অপর সঙ্গিকে বোঝানোর জন্য, যার সাথে নিজের কোন প্রেম কিংবা যৌন সম্পর্ক নেই।

অলিভার আর ননির সম্পর্কের বয়স ১৮ মাস। এডিনবার্গে দুই বছর আগে তাদের প্রথম পরিচয়। ২০১৬ সালে একটি নাটকের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো পরিচয় হয়েছিলো এই দুজনের। অলিভার জানান, ননি তাদের সম্পর্কের আগে থেকেই নিজের বহুগামীতার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন। অলিভার জানান, “এটি আমার জন্য কোন সমস্যা ছিল না। আমাকে যেটা মূলত ভাবিয়েছে তা হলো ভবিষ্যতে এটি কোন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে কিনা। কারণ শুরুতে একটি সম্পর্ক হালকাভাবে শুরু করলেও পরবর্তিতে তা গভীরতা পেলে প্রেমিকার অন্য প্রেমিকের প্রতি হিংসার জায়গা তৈরি হতেই পারে।“

তবে ননিকে তার এতটাই ভালো লেগেছিলো যে, এই ব্যাপারটিকে কোন সমস্যাই মনে হয়নি তার কাছে। যেহেতু এটি একটি উম্মুক্ত সম্পর্ক, তাই অলিভার নিজেও চাইলে আরো কারো সাথে প্রেম করতে পারে। এই ব্যাপারে অবশ্য অলিভার তেমন উৎসাহী নন। তিনি জানান, প্রেম হলে হবে, নিজে থেকে কাউকে আপাতত খুজছেন না তিনি। তবে তিনি যদি ভালো কোন নতুন সঙ্গিনী খুজে পান, ননি খুশিই হবেন।

বর্তমানে ননি এবং অলিভার কাছাকাছি থাকার কারণে তাদের নিয়মিত দেখা হয়। তবে তিনি মরগ্যানকে ভুলে যাননি, তার সাথে প্রতিদিন কথা বলেন ননি। ননি জানান, এই দুজনের মাঝে কাউকে তিনি বেশি কিংবা কম পছন্দ করেন এমনটি নয়, দুটি মানুষ এবং তাদের সাথে সম্পর্কগুলো আলাদা আলাদা এবং দুটিই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, “আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় আমার চকলেট বেশি পছন্দ নাকি থিয়েটার, তাহলে আমি বলতে পারবোনা। কারণ দুটি খুবই আলাদা দুটি বিষয়। একইভাবে মরগ্যান এবং অলিভারও আলাদা ধরনের দুজন মানুষ, আমি দুজনকেই খুব ভালোবাসি”।’

ননির এই নৈতিকতার আরেকটি দিক হলো দুই প্রেমিককে যৌনরোগের ঝুকিতে না ফেলা। তিনি জানান তার দুই প্রেমিকের সাথেই মিলনের সময়ে কনডম ব্যবহার করেন নিরাপত্তার জন্য। কারণ যেকোন একজনের কোন সমস্যার কারণে ভুগতে হতে পারে তিনজনকেই।

যদিও ননির বয়স  কেবল ২৩ বছর, তবু তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বহুগামী হয়েই তিনি জীবন পার করতে চান। ভবিষ্যতে পরিবার গড়ার জন্য এটি কোন আদর্শ জীবনব্যবস্থা না হলেও তা নিয়ে চিন্তা নেই এই তরুনীর। তিনি বলেন, “আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি যারা বহুগামী এবং তাদের সন্তান ও পরিবার রয়েছে”।

তিনি আরো বলেন, “সবাই মনে করে বহুগামীতা মানেই প্রচুর পরিমাণে যৌনমিলন। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। আপনাকে ঘরের মধ্যে উগ্র হতেই হবে এমনটি নয়। একটি শিশুর কেবল একজন বাবা বা একজন মাত্র মা থাকবে এই ধারণাটি আমার কাছে সেকেলে মনে হয়”।

ননির দেশে বহুগামীতা কোন নতুন ধারণা নয়, কিন্তু তবুও এটি সমাজের সর্বস্তরে নিষিদ্ধ দৃষ্টিতেই দেখা হয়। স্কটল্যান্ড একটি একগামী দেশ। ননি বলেন, “আমরা এটি নিয়ে যত মানুষের সাথে কথা বলবো এবং তাদের বোঝাবো, ততই এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*