বায়ু দূষণের প্রভাব পড়ছে নীতি-নৈতিকতাতেও

বায়ুদূষণ কেবল শরীরের জন্যেই ক্ষতিকর তা নয়, এটি ক্ষতি করতে পারে মানুষের নীতি-নৈতিকতারও, এমনটাই জানিয়েছেন গবেষকেরা। বায়ু দূষণের ফলে মানুষের আচরনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, বাড়তে পারে সন্ত্রাস ও ধোঁকাবাজী করার প্রবণতা।

অতীতের তথ্য ও সাম্প্রতিক পরীক্ষামূলক কিছু গবেষনা ইঙ্গিত করে যে, বায়ু দূষণের সাথে নীতিবোধ হ্রাস পাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

এই গবেষণার প্রধান লেখক কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের জ্যাকসন জি লু বলেন, “শরীরের বর্ণনাতীত ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যহীনতা তৈরির ক্ষেত্রেও দুষিত বায়ুর প্রভাব রয়েছে। আমাদের গবেষনার ফলাফল এমনটাই আভাস দিয়েছে”।

এই গবেষনাপত্রটি ‘সাইকোলজিকাল সাইন্স’ নামক একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৯,৩৬০টি শহরের বায়ু দুষনের প্রকৃতি এবং অপরাধমূলক কর্মকান্ড পর্যবেক্ষন করে এই গবেষনা করা হয়েছে।

বায়ুদুষণের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নজর দেওয়া হয়েছে কয়েক ধরণের দূষণের মাধ্যমগুলোর উপরে। এর মধ্যে রয়েছে বস্তুকণা, কার্বন মনোঅক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড ও সালফার ডাইঅক্সাইড। আর অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তালিকায় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে খুন, ডাকাতি ও  মারধরসহ মোট সাত ধরণের অপরাধ।

গবেষকেরা দেখেছেন যে, যে শহরে বায়ুদুষণ যত বেশি সেসব শহরে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের হারও তত বেশি।

এই গবেষণার ক্ষেত্রে শহরের জনসংখ্যা, আয়তন, দারিদ্রের হার, আইন রক্ষী বাহিনীতে চাকুরিজীবিদের সংখ্যা, বর্ণ-গোত্র, বেকারত্বের হার, লিঙ্গ অনুপাত ইত্যাদি সকল বিষয়ই বিবেচনায় নিয়েছিলেন গবেষকেরা।

বায়ু দূষণের সাথে নৈতিক অবক্ষয়ের সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা তা প্রমাণ করতে গবেষকেরা বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক পরীক্ষার আশ্রয়ও নিয়েছিলেন।

অতীতের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বায়ু দূষণের ফলে মানুষের মাঝে বিষন্নতা ও হতাশা বেড়ে যায়। এই বিষন্নতা কিংবা হতাশা বেড়ে গিয়েই তা থেকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে এগিয়ে যায় মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*