গবেষণাগারে তৈরি হলো মানব ডিম্ব, যা দিয়ে প্রজনন সম্ভব

বিজ্ঞানীরা গবেষনাগারে সম্পূর্ণ পরিপক্ব মানব ডিম্ব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ক্ষেত্রে।

নিউইয়র্ক ও এডিনবার্গের গবেষকেরা গর্ভাশয়ের টিস্যু থেকে নতুন ডিম সংগ্রহ করে তা গবেষণাগারে সংরক্ষণ করে একে পরিপক্ব করার এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, এমনটাই জানা যায় ‘মলিকিউলার হিউম্যান রিপ্রোডাকশন’ নামের এক পত্রিকায় গত শুক্রবারে প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে। এই ডিমগুলোকে ততখানিই বড় করা হয়েছে যে পর্যায়ে এটি দিয়ে প্রজনন সম্ভব।

অতীতে এই গবেষণায় সফলতা এসেছিলো ইঁদুরের ডিম্ব দিয়ে। আর গবেষনার জন্য মানুষের ডিম্ব সংগ্রহ করা হয়েছিলো বেশ পরিপক্ব অবস্থায়, যার ফলে তা বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায়নি।

এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটি একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, “আমাদের সর্বশেষ এই গবেষনাতেই প্রথমবারের মত শরীরের বাইরে একটি ডিম সবচেয়ে ছোট পর্যায় থেকে একদম পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত রাখা সম্ভব হয়েছে”।

যে গবেষকেরা এই গবেষণায় অংশ নেননি, তারাও এর প্রশংসা করেছেন বিশ্বজুড়ে। তারা মনে করেন এটি একটি অসাধারণ অর্জন। তবে তারা আরো মনে করেন, এই পদ্ধতিকে নিরাপদে চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার করার সময় এখনো আসেনি। সেজন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।

নতুন এই পদ্ধতি যেমন সমাধান হতে পারে সন্তান ধারণের অক্ষমতায়, তেমনি এটি হয়ে উঠতে পারে কেমোথেরাপীরও একটি বিকল্প।

এই পদ্ধতিতে একটি ডিমকে খুব অল্প পক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করে জমিয়ে রাখা হয়, গবেষণাগারে রক্ষনাবেক্ষণ করা হয়। পরিপক্বতা পাওয়ার পরে পুরুষের বীজ ব্যবহার করে এ থেকে বাচ্চা ধারণ করানো সম্ভব।

আগে দেখা যেত, ক্যান্সার রোগীদেরকে কেমোথেরাপীর আগে গর্ভাশয়ের অংশবিশেষ কেটে বাদ দিতে হতো। পরবর্তীতে তা আবার স্থাপন করতে গেলে থাকত পুনরায় ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতি সফলভাবে চিকিৎসাক্ষেত্রে আসলে এই জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে পারেন অনেকে।

এই গবেষণার সহ-পরিচালক এভেলীন টেলফার বর্তমানে ডিমগুলো কতখানি স্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে তা দেখছেন। তিনি বলেন, “আমরা আরো আশা করি যে,নিয়ন্ত্রকদের অনুমতি সাপেক্ষে এগুলো বাচ্চা জন্ম দিতে সক্ষম কিনা তা আমরা পরীক্ষা করে দেখতে পারবো”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *