ফেসবুক-গুগলের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রতিষ্ঠান দুটির সাবেক দুই কর্মী

ফেসবুক-গুগলের কল্যানে পৃথিবীটা যেন এখন চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। যে কোনো সময় বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের খবরাখবর নেওয়া এখন কোনো ব্যাপারই না। কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠের চেহারাটা খুব একটা সুখকর না। ফেসবুক-ইন্সটাগ্রাম-ইউটিউব মানুষের মধ্যে তৈরি করছে অত্যাধিক আসক্তি। যা নাকি ‘আমাদের মানসিক ও সামাজিক জীবনে ডাকাতি’ করার সামিল। এমনটাই বলছেন ফেসবুক ও গুগলের সাবেক দুই কর্মী।তাদেরই হাতে বেড়ে ওঠা প্রযুক্তির প্রতি মানুষের অত্যাধিক আসক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণায় নেমেছেন তাঁরা।

“দ্য সেন্টার ফর হিউম্যান টেকনোলজি” নামের একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন ফেসবুক-গুগলের সাবেক দুই কর্মী। তাঁরা চান মানুষ ডিজিটাল জগতে অস্তিত্বের সংকটময়তা কাটিয়ে বরং মানবতার সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বহাল রাখতে। তারা বলেন, “প্রযুক্তি বর্তমানে আমাদের মানসিকতা ও সমাজে ডাকাতি করছে।“

আরও পড়ুন: সাবধান! আপনি কি সোশাল মিডিয়ায় আসক্ত?

প্রযুক্তি নিয়ে চরম সত্য বলা এই আন্দোলনের পিছনে কাজ করছেন প্রাক্তন ফেসবুক কর্মচারী রজার ম্যাকনামি এবং গুগলের প্রাক্তন একজন ডিজাইন বিশেষজ্ঞ ট্রিস্টান হ্যারিস। তাদের এই আন্দোলনের ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে যে, স্ন্যাপচ্যাট, ইন্সটাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউব কোন নিরপেক্ষ পণ্য নয়। এগুলো এমন একটি সিস্টেমের অংশ যা আমাদের ক্রমেই আসক্ত করে ফেলতে সক্ষম।

‘কমন সেন্স মিডিয়া’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা ৭ মিলিয়ন ডলারের একটি অনুদান পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫ হাজার স্কুলে তাদের প্রচারনা চালাবে। সেখানে শিশু, তাদের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বাবা-মাকে অতিরিক্ত প্রযুক্তির ব্যবহারের নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করা হবে। তাছাড়া তারা রাজনীতিবিদদের দিয়ে দুটি আইন পাশ করার জন্য রাজি করাতে চেষ্টা করবেন। প্রথমত, শিশুদের স্বাস্থ্যের উপর প্রযুক্তির প্রভাব এবং দ্বিতীয়ত ডিজিটাল ‘বট’ চিহ্নিত করতে।

তাছাড়া প্রযুক্তি কিভাবে সমাজকে ধোকা দেয়, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় অসংখ্য ভুয়া সংবাদ যেভাবে মানুষকে প্রভাবিত করেছিলো, তা নিয়েও আলোকপাত করছে এই আন্দোলনটি। তাছাড়া স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন প্রযুক্তি পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত করে।

ডিসেম্বরে ফেসবুকের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা চামাথ পালিহাপিত্য বলেন, “সমাজের কার্যপ্রক্রিয়া ব্যহত করার মতো কিছু উপায়কে সহায়তা করার জন্য আমি অনুতপ্ত।“ তিনি এখন তার নিজের সন্তানদের ফেসবুক ব্যবহার করতে দেন না। তার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে ফেসবুক বিনিয়োগকারী শন পার্কার বলেন, ফেসবুক ও একই রকম সংস্থাগুলো মানুষের মানসিকতার জন্য বিরাট হুমকি।

আরও পড়ুন: ফেসবুকের “আমি বনাম তুমি” যুদ্ধগুলো

গত জানুয়ারিতে বিখ্যাত কোম্পানী ‘অ্যাপল’ এর দুইজন বিনিয়োগকারী কোম্পানীটিকে অনুরোধ করেছেন যেন শিশুদের আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার প্রক্রিয়াটি আরো সহজ করে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *