পরাজয় মেনে বিজয় মিছিলঃ কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গ্যাসলাইটিনিং ইফেক্ট!

ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে- ‘গ্যাসলাইটিনিং (Gaslighting)’। যার অর্থ বাংলা করলে দাঁড়ায় এমন: কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এমনভাবে প্রভাবিত করা যেন সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের স্মৃতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান। সন্দেহ করতে থাকেন নিজের অবস্থানকেই। আর এই গ্যাসলাইটিনিং-এর কাজটা করা হয় ক্রমাগত মিথ্যাচার, দ্বিমুখী কথাবার্তা, ভুল নির্দেশনা দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে।

ব্যক্তিক পর্যায়ে এটির ব্যবহার ও প্রয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কথাবার্তা চলছে মনোবিজ্ঞানে। ব্যাপারটি কিভাবে ব্যক্তিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলে এবং বিভিন্ন মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি-গবেষণাও হয়েছে।

১৯৯০-এর দশকে বিল ক্লিনটন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ‘গ্যাসলাইটিনিং’ বিষয়টাকে রাজনীতির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন সাংবাদিক মাউরিন ডোউড। পরবর্তীতে বিল ক্লিনটন, জর্জ বুশের শাসনামলে, ফক্স নিউজের সংবাদ প্রচারে রাজনৈতিক স্বার্থে গ্যাসলাইটিনিং-এর ব্যবহার হয়েছে বলে একটি বইয়ে লিখেছেন ব্রায়ান্ট ওয়েলচ। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান দুই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাজনৈতিক‘গ্যাসলাইটিনিং’য়ের ব্যবহার করেছেন বলে মনে করেন অনেকে।

তবে কিভাবে জিনিসটা কার্যকরীভাবে প্রয়োগ করতে হয়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন মাত্র তিন-চার দিনের মধ্যে কোন অবস্থান থেকে কোন অবস্থানে চলে গেল, তা রীতিমতো অকল্পনীয়।

গত তিন-চারদিন পুরো দেশের শিক্ষার্থীরা তুমুল আন্দোলন করছিলেন কোটা সংস্কারের দাবিতে। কোটা সংস্কার না, পুরোপুরি বাতিলই হয়ে যেতে পারে, এমন কথাবার্তা শোনার পর আন্দোলনকারীরা শ্লোগান দিয়েছিলেন, ‘গুজব নয়, গেজেট চাই’. ‘বাতিল না, সংস্কার চাই’।

কিন্তু সংসদে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘কোনো কোটাই থাকবে না’। সেটাও কবে নাগাদ, কিভাবে হবে- সেগুলো সম্পর্কেও কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ছিল না। প্রতিবন্ধী-আদিবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেটাও বা কিভাবে হবে, বিশেষ ব্যবস্থাটাই বা কি- কিছুই স্পষ্ট না। পুলিশের বুলেট-টিয়ারশেলে আহত, আটক শিক্ষার্থী সহযোদ্ধাদের ব্যাপারেও কিছু শুনলেন না আন্দোলনকারীরা। তারপরও এটাই নাকি বিজয়। প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধি দিয়ে বিজয় মিছিল করলেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থীরা।

চাওয়া-পাওয়ার হিসেব মিলাতে গিয়ে অনেকেই এখন ‘গ্যাসলাইটিনিংয়ের’ প্রভাবে নিজেদের “স্মৃতি-দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক সুস্থতা” নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না কী হচ্ছে। ৮-১২ এপ্রিল; এই পাঁচ দিনে পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ছাত্রলীগের হামলা, সুফিয়া কামাল হলের প্রতিরোধ, রাজপথে সংহতি-শ্লোগান-মিছিলের উন্মাদনা- ইত্যাদি নানা অভিজ্ঞতার স্মৃতি তালগোল পাকিয়ে যেতে শুরু করেছে গ্যাসলাইটিনিংয়ের’ প্রভাবে।

এমনই একজন ফেসবুকে লিখেছেন: ‘বিজয় মিছিল করে পরাজয় মেনে নিলাম!?’ সত্যি! এমন অদ্ভুত আন্দোলন বোধহয় পৃথিবীতে প্রথম দেখা গেল।

কিভাবে কী ঘটল

কোটা সংস্কার আন্দোলন খুব অল্প সময়ের মধ্যে তোলপাড় ফেলেছিল পুরো বাংলাদেশে। ৮ এপ্রিল থেকে তীব্র রূপ ধারণ করার পর ১১ এপ্রিল রাজধানী ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশই যেন থমকে গিয়েছিল তরুণ শিক্ষার্থীদের শ্লোগানে-মিছিলে। কিন্তু দাবী আদায়ে কতটুকু সফল হলেন আন্দোলনকারীরা, তা জন্ম দিয়েছে বিস্তর দ্বিধা-সংশয়ের।

কোটা সংস্কারের ৫ দফা দাবি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। গত ৮ এপ্রিল সেটিরই চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় শাহবাগ চাররাস্তার মোড় অবরোধের মধ্য দিয়ে। সন্ধ্যা-রাতে সেটি রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। রাষ্ট্রের বৈধ-অবৈধ বাহিনী, পুলিশ-ছাত্রলীগ মিলিতভাবে হামলা চালায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর। আহত হন শতাধিক শিক্ষার্থী। আটক করা হয় অনেককে।

৮ এপ্রিলের ঘটনাবহুল রাত

৮ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। শাহবাগে অবরোধকারী আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার জন্য পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে আহত হয় অনেকেই। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। এভাবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে সংঘর্ষ। রাতের দিকে হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, পুলিশের গুলিতে এক শিক্ষার্থী মারা গেছে।

Posted by ShøpÑìl RiFat on Tuesday, 10 April 2018

এই খবর শুনে গেট ভেঙে হল থেকে বেরিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমবেত হয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও পুলিশবাহিনী

৮ এপ্রিল রাতে এই ডামাডোলের মধ্যে হামলা চালানো হয় উপাচার্যের বাসভবনে। পেশাদারী কায়দায় চালানো এ হামলায় ব্যপক ক্ষতিগ্রস্থ হয় ভিসির বাসভবন। এই হামলার বিষয়টি পরবর্তীতে বেশ সমালোচিত হয়। আন্দোলনকারীদের পড়তে হয় কঠোর সমালোচনার মুখে।

তবে অনেকেরই ধারণা যে, এটি বহিরাগত সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিত হামলা। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ছবিতে দেখা যায় মাথায় হেলমেট পরে, হাতে রড হাতে ভিসির বাড়িতে ঢুকছে এক যুবক। তার গায়ের টি-শার্টটিতে লেখা ছিল ঢাকা কলেজের নাম। আন্দোলনের গতিমুখ অন্য দিকে ঘোরানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ এই হামলা চালিয়েছে বলে অনুমান অনেকেরই।

পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরের দিন, পরের দিন ৯ এপ্রিল সকাল থেকেই দেশের প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই শুরু হয় বিক্ষোভ। সকালে জানা যায় যে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী সরকার। সচিবালয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন ওবায়দুল কাদের। আর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বেছে নেওয়া হয় ২০ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। দুপুর আড়াইটার দিকে সচিবালয়ে বৈঠকের জন্য যায় আন্দোলনকারীদের এই প্রতিনিধি দল। আন্দোলনে বিভক্তির সূত্রপাত হয় এই ঘটনার পর থেকে।

কিভাবে তৈরি হলো ভাঙন

যে আন্দোলনকারীরা গত দুই-তিন মাস ধরে সংগঠিত হয়েছেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন, তারা বিভক্তির ফাঁদে পড়েছিলেন সচিবালয়ের সেই বৈঠকের পর। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের কাছে ৭ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন। এর মধ্যে কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। আন্দোলনকারীদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদলও সেটা মেনে নিয়ে আন্দোলন ১ মাস স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তটা তারা যখন সবাইকে জানাতে গেলেন, তখন বাধে বিপত্তি। টিএসসি-শাহবাগে উপস্থিত অন্যান্য অনেক শিক্ষার্থীই সেই সিদ্ধান্ত নাকচ করেছিলেন।

টিএসসিতে ভুয়া ভুয়া বলে চারিদিক মুখরিত করে তুললেন উপস্থিত আন্দোলনকারীরা। বর্জন করলেন সেই প্রতিনিধি দলের সিদ্ধান্তকে। তর্ক-বিতর্ক আর হই-হট্টগোলের এক পর্যায়ে এক নারী শিক্ষার্থী নতুন কর্মসূচির প্রস্তাব করেছিলেন। তাঁর প্রস্তাব ছিল: সরকার যে একমাস সময় চেয়েছে, সেই পুরো সময় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন। সেই সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা।
এই প্রস্তাব শোনার সঙ্গে সঙ্গেই করতালিতে মুখরিত হয় চারপাশ। সবাই আগ্রহ নিয়ে শুনতে চান সেই নারী বন্ধুটির কথা। এই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে শুরু করেন পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা। সেই অনুযায়ী পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদেরও জানানো হয় নতুন কর্মসূচি। সেটা ছিল: ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলবে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের কাছ থেকে গঠনমূলক কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়া গেলে ১৬ এপ্রিল ঢাকা ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন। পাল্টা-পাল্টি দুটি ঘোষণায় বিভ্রান্তি ছড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

ফেসবুক গ্রুপ বিভ্রান্তি
এবছরের শুরু থেকে নতুন উদ্যোমে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন সংগঠিত করার পেছনে একটা বড় ভূমিকা আছে ফেসবুকের। এখানকার একটি গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালিয়েছেন, কর্মসূচি ঠিক করেছেন আন্দোলনকারীরা। আর সেই গ্রুপের অ্যাডমিনরা স্বভাবতই নিজেদের ভাবতে শুরু করেছিলেন নেতৃস্থানীয়। ৯ এপ্রিল সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার জন্য আন্দোলনকারীদের যে ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা এই নেতৃস্থানীয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছিলেন।

কিন্তু সচিবালয়ে তাঁরা যেভাবে আলোচনা করেছেন ও টিএসসিতে ফিরে এসে যেভাবে অন্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করেই আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে ফেলেছিলেন- তা মেনে নিতে পারেননি অন্যান্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ২০ সদস্যের সেই প্রতিনিধিদল ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া পরপরই ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘মিথ্যা আশ্বাস, মানিনা মানবনা’ ইত্যাদি শ্লোগানে মুখরিত হয়েছিল টিএসসি এলাকা। মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সেই নেতাদের হাত থেকে।
২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের কর্মসূচি স্থগিতের প্রস্তাব নাকচ করে যাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁরা তৈরি করেন একটি নতুন ফেসবুক গ্রুপ। এবং সেটির মাধ্যমে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে আগে থেকেই যে ফেসবুক গ্রুপটি চালু ছিল, সেখান থেকে এই গ্রুপে যোগদানের ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে। আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাবে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এছাড়াও কোটা সংস্কার আন্দোলন সংক্রান্ত আরও দু-একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। তবে উপরোক্ত দুটি গ্রুপই এই আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু দুই গ্রুপের বিভ্রান্তিতে পড়তে দেখা গেছে অনেককেই। বিশেষত ঢাকার বাইরের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।

কোন গ্রুপে কী বলা হয়েছিল
কোটা সংস্কার চাই (সকল ধরনের চাকরির জন্য) নামের এই গ্রুপটিই শুরু থেকে আন্দোলন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২০ লাখের কাছাকাছি। এটা এখন সেই ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তাঁরা বানিয়েছেন একটি কেন্দ্রীয় কমিটি। এবং সেই গ্রুপ থেকে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছিল সেই কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে চলার জন্য।

তবে ৯ এপ্রিল বিকেল-সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশিরভাগ আন্দোলনকারীরই অবস্থান ছিল আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। এক মাস স্থগিতের বিষয়টি কেউই মেনে নিতে পারেননি। যিনি খুব নরম- তিনিও চেয়েছিলেন যেন কোনো না কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে যেন আন্দোলনটি চাঙ্গা থাকে। আর বেশিরভাগেরই মনোভাব ছিল: সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য না আসা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া। গ্রুপের বিভিন্ন কমেন্টে ‘নেতাদের’তেমন কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ-সুপারিশ জানিয়ে গেছেন অনেকে।

পরে নতুন করে যে গ্রুপটি খোলা হয়েছিল সেটির নাম: কোটা সংস্কার চাই (নতুন গ্রুপ,সকলে এড হয়ে বন্ধু দের এড করুন)। বর্তমানে এই গ্রুপের সদস্যসংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। সেখানে অধিকাংশই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন। কোনো কোনো পোস্টের নিচে মন্তব্য দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেবার জন্য বা সেখানকার নির্দেশনার অপেক্ষা করার জন্য।

সেসময় দুই গ্রুপই অবশ্য একটা জায়গায় ছিল খুব সোচ্চার। সেটি হচ্ছে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরির ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রতিবাদ। দুই গ্রুপেই বেশ কিছু পোস্ট দেখা যায় কৃষিমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনায় পরিপূর্ণ। এখন থেকেই আবার বিভক্তি কাটিয়ে সম্মিলিত লড়াইয়ে ফিরে আসে শিক্ষার্থীরা।

মতিয়া চৌধুরির মন্তব্য ও আন্দোলনের ঐক্য

৯ এপ্রিল তৈরি হওয়া শিক্ষার্থীদের এই বিভক্তি দূর হয়ে যায় পরের দিনই। আর এখানে একটা বড় ভূমিকা পালন করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরি। সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা সুযোগ পাবে না, রাজাকারের বাচ্চারা সুযোগ পাবে? তাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংকুচিত হবে?’

এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান শিক্ষার্থীরা। ৯ এপ্রিল আন্দোলন স্থগিত করা কেন্দ্রীয় কমিটিও পরের দিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। আর তাদের বিদ্রোহী একটি অংশ তো আগে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুই অংশের সম্মিলিত আন্দোলনে ১০ এপ্রিল পুরো দিনই দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় মুখরিত হয়েছিল মিছিল-শ্লোগানে।

কোটা সংস্কারের দাবির পাশাপাশি দিনের একটা বড় সময় নানা স্লোগান দেওয়া হয়েছিল মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে। আর সন্ধ্যার পর টিএসসির সামনে পোড়ানো হয় কৃষিমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা। একই সঙ্গে নতুন করে সম্মিলিত কর্মসূচি দেওয়া হয় দাবি আদায়ের জন্য: সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ক্লাসপরীক্ষা বর্জন ও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশ অবরোধ।

নাট্যমঞ্চে নতুন তারকা ইশার আগমন

১০ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঘটে এই আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিন-চারদিনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু সাড়া জাগানো এই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে হাজির হন ইফফাত জাহান ইশা। সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি একটি মেয়ের রগ কেটে দিয়েছেন ও অন্য আরও কয়েকজনকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে হলের মেয়েরা। ইশা পড়েন গণরোষের মুখে।

সুফিয়া কামাল হলের এই ছাত্রলীগের সভাপতি বেশ কিছুদিন ধরেই ছাত্রীদের ওপর নানাবিধ নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ না দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। সেই নির্দেশ না মানায় কয়েক ছাত্রীর ওপর চড়াও হয়েছিলেন ইশা। সেসময়ই ঘটে এক ছাত্রীর পা কেটে যাওয়ার ঘটনা। ছাত্রীদের অনেকে দাবি করেছিলেন যে, ইশার নির্যাতনেই সেটি কেটেছে। আর পরে একজনের মুখ থেকে শোনা গিয়েছিল যে, জানালার কাঁচে লাথি মেরে তিনি নিজেই পা কেটেছেন।

ঘটনা সেসময় যেটাই ঘটে থাকুক না কেন, সেটি শেষপর্যন্ত রূপ নেয় ছাত্রীদের বিক্ষোভে। এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়লে হাজারো শিক্ষার্থী ছুটে যান সুফিয়া কামাল হলের সামনে। মেয়েদের অন্যান্য হলগুলোও সরব হয়ে ওঠে ইশার নির্যাতনের বিরুদ্ধে। আর সুফিয়া কামাল হলে ছুটে যান প্রক্টর। তাঁর ও হল প্রভোস্টের সামনে মেয়েদের কাছে ক্ষমা চান ইশা। সেসময় তাঁর গলায় জুতার মালা পড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সেই রাতেই ইশাকে তাৎক্ষণিকভাবে সংগঠন থেকে বহিস্কার করে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইশাকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত নেন।

দেশব্যাপী ধর্মঘট, প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা

রাতভর বিক্ষোভ-প্রতিবাদের পর ১১ এপ্রিল সকাল থেকেই ফুঁসে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশ। আগে থেকেই আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাজধানী ঢাকা স্থবির হয়ে পড়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। ঢাকার বাইরেও পুরো দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

১১ এপ্রিল দুপুর নাগাদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরণের কোটা বাতিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপর এ নিয়ে শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। বিকেলে সংসদে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানা যায়। এসময় আন্দোলনকারীদের মধ্যে তৈরি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে বলেন যে, আমরা কোটা সংস্কার চেয়েছি, বাতিল না। শ্লোগান দেওয়া হয়, প্ল্যাকার্ড লেখা হয়: “গুজব না, গেজেট চাই / বাতিল না, সংস্কার চাই”। নারী, আদিবাসী, প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ব্যবস্থা জারি রাখার দাবি তোলেন অনেকে। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্তের।

তবে সব পক্ষকেই হতাশ করে জাতীয় সংসদে কোটা পদ্ধতি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাই জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ইউনিভার্সিটিগুলোতে ক্লাস বন্ধ। পড়াশোনা বন্ধ। এরপর আবার ভিসির বাড়ি আক্রমণ। রাস্তাঘাটে যানজট। মানুষের কষ্ট। সাধারণ মানুষের কষ্ট। সাধারণ মানুষ বারবার কষ্ট পাবে কেন? এই বারবার কষ্ট বন্ধ করার জন্য, আর বারবার এই আন্দোলনের ঝামেলা মেটাবার জন্য কোটাপদ্ধতি বাতিল। পরিষ্কার কথা। আমি এটাই মনে করি, সেটা হলো বাতিল।’

কিন্তু সেটি কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে, কবে প্রজ্ঞাপন জারি হবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কিছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরো আন্দোলনটির যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো কিছু শোনা যায়নি তাঁর কাছ থেকে। বরং ভিসির বাড়িতে ভাংচুর, সড়ক অবরোধ করে ভোগান্তি তৈরি করা ইত্যাদির জন্য শিক্ষার্থীদের বেশ বকাঝকাই করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতনে আহত ও আটক শিক্ষার্থীদের ব্যাপারেও কোনো কথা শোনা যায়নি তাঁর মুখ থেকে।

১১ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা এই বক্তব্য মূল্যায়ন করে ১২ এপ্রিল সকালে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন। আর ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিজয় মিছিল করে ছাত্রলীগ।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকেই বিজয় হিসেবে মেনে নিয়ে ব্যাপকহারে ক্যাম্পেইন চালানো হয় অনলাইনে। যে ফেসবুক গ্রুপটির মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা সংগঠিত হয়েছিলেন, সেই গ্রুপের বেশিরভাগ পোস্টেই লক্ষ্য করা গেছে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার ও সেটির পক্ষে প্রচারণা চালানোর প্রবণতা। অনেকেই অবশ্য সেগুলোর নিচে কমেন্ট করে ভিন্নমতের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু পাল্টা কমেন্ট করে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সবারই বিশ্বাস রাখা উচিৎ।

 পরাজয় মেনে নিয়ে বিজয় মিছিল

১২ এপ্রিল সকালে পরিবর্তন হয়ে যায় ফেসবুক গ্রুপটির কাভার ফটো। সেখানে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। গ্রুপে দেওয়া হয় একটি লিখিত বক্তব্যের খসড়া। সেটি পুরোটাই পরিপূর্ণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা-স্তুতিতে। তাঁর আশ্বাস মেনে নিয়ে বিজয় মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। সেটি সকালে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীকে খেতাব দেওয়া হয়, ‘মাদার অব এডুকেশন।’ ‘গ্যাসলাইটিনিং ইফেক্টে’ অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না কী হচ্ছে। মাথা চুলকাতে চুলকাতে বিজয় মিছিলেও যোগ দিয়েছিলেন অনেকে। এমনই একজনকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস আকারে লিখতে দেখা যায়, ‘বিজয় মিছিল করে পরাজয় মেনে নিলাম!?’

প্রতিশোধের কাল

কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছিল ছাত্রলীগকে। বিশেষ করে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ নেত্রী ইশার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ সরব হয়েছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা আসার পরপরই প্রতিশোধপরায়ন হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ। সেদিন বিকেলেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

আর ১২ এপ্রিল সকালে কেন্দ্রীয় কমিটি যখন বিজয় মিছিল করছিল, তখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ হল থেকে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ আসে। শুরু হয় ছাত্রলীগ নেত্রী ইশার পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রচারণাও। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের দীর্ঘদিনের চেপে রাখা ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়ে যেভাবে ইশার মালায় জুতার গলা পড়িয়েছিলেন, তা নির্যাতনের সামিল বলে মত দিতে থাকেন আওয়ামী লিগপন্থী অনেকে। ইশার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সান্তনা দেন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মীরা।

ইশাকে হেনস্তা করার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ছাত্রীর নাম ফেসবুকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। ইশা আবার হলে ফিরে আসতে পারেন এবং প্রতিশোধপরায়ন হয়ে উঠতে পারেন, সেই আশঙ্কায় অনেক ছাত্রীর হল ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ঢাবি ভিসি যেভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন!

মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট মিডিয়ার সামনে বলেন যে, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী এশা তার কাছে আরেকজন ছাত্রীকে আঘাত করার স্বীকারোক্তি দিয়েছে, ঢাবি ভিসিও সেই কথাকে সমর্থন করে এশাকে বহিষ্কার করেন। কিন্তু মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভিসি তার সেই আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে ঐ আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন! শুধু তাই নয়, তাকে সম্মানিত করার ঘোষণাও দেন।এর আগে ছাত্রলীগের আরেক সন্ত্রাসী শ্রাবনী শায়লা অন্য ছাত্রীকে জনসমক্ষে বিবস্ত্র করে পেটানোর পুরষ্কার হিসেবে ভারত ভ্রমণ ও নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাতের পুরষ্কার পেয়েছিল, এবার এশাকে কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের পুরষ্কার প্রদান করা হবে?

Posted by A K M Wahiduzzaman on Friday, 13 April 2018

১৩ এপ্রিল ইশার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এশা সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে জানানো হয় ছাত্রলীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। সেদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঘোষণা দেন যে, ইশার ছাত্রত্বও ফিরিয়ে দেওয়া হবে। শুধু তা-ই না, তাকে সম্মানিতও করা হবে।

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে বেশ কয়েকটি। এছাড়াও ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে পৃথক মামলা।

লেখক: পার্থ প্রতীম দাস, সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *