মারভেলের ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ কেন অন্যান্য সুপারহিরো সিনেমা থেকে আলাদা

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মারভেল-এর চলচ্চিত্র জগতে আবির্ভাব ঘটে ব্ল্যাক প্যান্থারের। এখন তার আছে নিজস্ব চলচ্চিত্র, যা গতানুগতিক ফ্যান্টাসি, মারামারি ও প্রেমের ঘটনা সম্বলিত চলচ্চিত্রগুলো থেকে বেশ আলাদা।

একজন কৃষ্ণবর্নের অভিনেতাকে দিয়ে কালো এক সুপারহিরোর প্লটে চলচ্চিত্র নির্মানের ঘটনা মারভেলের ইতিহাসে এই প্রথম। এই ধারনার উপর ভিত্তি করেই চলচ্চিত্রটি এগিয়ে গিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রার দিকে।

রায়ান কুগলার পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটির স্থান হিসেবে দেখানো হয়েছে ওয়াকান্ডা নামক একটি কাল্পনিক দেশ, যেটি আফ্রিকার একটি গোপন রাজ্য। তাদের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অনেক, কারণ তাদের দখলে আছে খুব মূল্যবান একটি ধাতুর প্রাচুর্য।

ব্ল্যাক প্যান্থার চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা চ্যাডউইক বোসম্যান বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ওয়াকান্ডা স্থানটিকে নিখুতভাবে উপস্থাপন করা খুব গুরুত্বপূর্ন ছিল। যেহেতু এটি কাল্পনিক তাই আমাদেরকে সম্পূর্ন নতুন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হয়েছে। প্রথমবারের মতো কৃষ্ণবর্নের কোন সুপারহিরো হচ্ছে বলে এমন করা হচ্ছে তা নয়, বরং ওয়াকান্ডার বিষয়টি যাতে দর্শক ভালোমত বুঝতে পারে তাই এই শ্রম”।

তিনি আরো বলেন, “শুধুমাত্র দেশটির চিত্র কিংবা বাচনভঙ্গি দিয়েই এটিকে বিচার করা যাবেনা।  আমরা কেন এক নির্দিষ্ট ধরনের জামা পরছি, কিংবা যতগুলো গোত্র সেখানে আছে তা কেনো আছে, তার কোন সার্বজনীন উত্তর নেই।“

একই কথা জানিয়েছেন তার সহ-অভিনেতা লুপিতা নিয়ংগো। চলচ্চিত্রটিতে তিনি নাকিতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অস্কারজয়ী এই তারকা বলেন, “আমরা আফ্রিকান এমন একটি দেশ দেখিয়েছি যা পৃথিবীর কেউ আগে দেখেনি, তবু যেন দেখে মনে হবে পৃথিবীতে এর অস্তিত্ব আছে। এই জাতিটি প্রচন্ড উন্নত, এবং তারা এই উন্নতি পেয়েছে কারণ তাদের পথে ঔপনিবেশিকতা আঘাত হানতে পারেনি”।

চলচ্চিত্রের দ্বন্দ্বগুলোকে ব্ল্যাক প্যান্থার কিভাবে সামলাবে তা নিয়ে বোসম্যান এবং কুগলার দুজনেই খুব ভেবেছিলেন। বোসম্যান বলেন, “তার হাতে অতিমানবীয় শক্তি রয়েছে, তার আছে একটি গুলি প্রতিরোধক জ্যাকেট এবং অপ্রতিরোধ্য এক সেনাবাহিনী। সে যে দেশে থাকে তা সম্বন্ধে মানুষেরা এমন ধারণা রাখেনা, তাই তার ধারেকাছে যেতে পারেনা কেউ। তাই আমরা ভাবছিলাম এটিকে বাস্তবমুখী করতে কি কি করা যেতে পারে।“ চলচ্চিত্রটির মজার দিকটি হলো, এমন একটি মানুষকে দেখানো হয়েছে যে পৃথিবীর বাকি মানুষদের কষ্ট সম্পর্কে অবগত নয়।

মাইকেল বি জর্ডান অভিনীত খলনায়ক এরিক কিলমঙ্গার চরিত্রের মাধ্যমে সে এগুলো জানতে পারে। অর্ধেক আফ্রিকান ও অর্ধেক ওয়াকান্ডান বংশোদ্ভূত এরিক আফ্রিকানদের ভোগান্তি প্রত্যক্ষ করার পরে তাদের সাহায্যার্থে সেই রাজ্যে গিয়েছিলেন। এমন সহানুভূতিশীল এক খলনায়ক চরিত্র দেখানো হলিউডের ইতিহাসে খুব বিরল।

লুপিতা মনে করেন, এই চলচ্চিত্রে একটি পৌরাণিক ও গ্রামীন পরিবেশে খুব গভীর এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াকান্ডার মিলিটারি নেতা ওকয়া চরিত্রে অভিনয় করা দানাই গেরেরা বলেন যে, চলচ্চিত্রটিতে নারীদের অবস্থান বেশ শক্তভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। কেবল “শক্তিশালী” নারী না দেখিয়ে বরং নারীদেরকে সুষমভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।

বাজারে নারী সুপারহিরোর চলচ্চিত্রের সংকট রয়েছে। মারভেল-এর প্রতিদ্বন্দ্বী ডিসি কমিক্স-এর পক্ষ থেকে গত বছর মুক্তি দেওয়া হয়েছিলো “ওয়ান্ডার ওমেন” চলচ্চিত্রটি। মারভেলের নারী সুপারহিরো ক্যাপ্টেন মারভেল ২০১৯ সালের আগে আসছে না। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া “আয়রন ম্যান ৩” চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী রেবেকা হল খলনায়িকা হিসেবে অভিনয় করার পরিকল্পনা করলে তা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। তাই সে পরিকল্পনা বাদ দিয়ে একজন পুরুষ খলনায়ককে দেখানো হয়েছিল চলচ্চিত্রটিতে, আর রেবেকা হল পেয়েছিলেন একটি কম তাৎপর্যপূর্ণ চরিত্র।

লুপিতা বলেন, “ব্ল্যাক প্যান্থার” চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো, ওয়াকান্ডার মানুষদের মধ্যে নিজেদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনার মাত্রার জ্ঞান। পুরুষ ও নারীরা পাশাপাশি ক্ষমতায় থেকে তাদের জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছেন চলচ্চিত্রটিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*