মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ হলো ‘পদ্মাবত’ সিনেমা

পদ্মাবত সিনেমাটি নিয়ে রীতিমতো দাঙ্গাহাঙ্গামা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে। সেখানে অভিযোগ ছিল, সিনেমাটিতে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে হিন্দু রানী ও মুসলিম রাজার প্রেম। পদ্মাবত সিনেমাটি নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় পড়েছে মালয়েশিয়াতেও। একজন মুসলমান শাসককে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার কারণে মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ হয়েছে বহু সমালোচনার জন্ম দেওয়া ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘পদ্মাবত’।

এই চলচ্চিত্রের মুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনার ঝড় থেকে শুরু করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলছে ভারতে। ১৪ শতকের পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের গল্পে জোর দেওয়া হয়েছে মুসলিম রাজা আলাউদ্দিন খিলজি, রাজপুত শাসক রতন সিং এবং হিন্দু রানী পদ্মাবতীর কাহিনীর উপরে।

ভারতের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের মধ্যে অনেকে এই চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতি এবং হিন্দুদেরকে, বিশেষ করে প্রধান চরিত্র হিন্দু রানী পদ্মাবতীর চরিত্রকে খাটো করে দেখানোর অভিযোগ এনেছেন।

আন্দোলনকারীরা এই চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন, ভাংচুর করেছেন যানবাহন ও দোকানপাট, হুমকির মুখে ছিলো সিনেমা হলগুলো। কিন্তু ভারতের সুপ্রীম কোর্ট এই দাবি বাতিল ঘোষিত করলে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে।

হিন্দুদের অবমাননা নিয়ে যখন এত বিবাদের সৃষ্টি, তখনি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘোষনা দিয়ে বসলো মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে জানানো হয়,এই চলচ্চিত্রে মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজিকে যেভাবে চিত্রায়ন করা হয়েছে, তার কারণে এটি সমগ্র মালয়েশিয়ার কোন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবেনা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, “আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্রকে দেখানো হয়েছে অহংকারী, নিষ্ঠুর, অমানবিক, ছলচাতুরীতে ভরপুর, অবিশ্বস্ত এবং এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে যিনি পুরোপুরি ইসলাম মানেননা”।

মালয়েশিয়ার সেন্সর বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, তাদের দেশে এই চলচ্চিত্র কোথাও মুক্তি পাচ্ছেনা। পদ্মাবত চলচ্চিত্রের ট্রেলারে দেখা যায়, মুসলিম এই সুলতান প্রচন্ড হিংস্র ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছেন। আর তার মুখোমন্ডল কাদা ও রক্তে মাখামাখি।

মালয়েশিয়ায় বলিউডের চলচ্চিত্রের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। মালয়েশিয়ার জনগোষ্ঠীর মাঝে ৭% ভারতীয় রয়েছে। দেশটির প্রায় ৩২ মিলিয়ন জনসংখ্যার অধিকাংশই ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

মালয়েশিয়ায় এর আগেও বেশ কিছু ধর্ম নির্ভর চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ হয়েছিলো। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র “নোয়াহ”। তাছাড়া যৌনতা সম্বলিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীও নিষিদ্ধ হয় সেখানে, যেমন ২০১৫ সালের চলচ্চিত্র “ফিফটি শেডস অফ গ্রে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *