টুপি-ট্যাটু-পিৎজা-নারী: কোচদের বিচিত্র নিষিদ্ধ-তালিকা!

৫২ বছর ধরে ইংল্যান্ডের ফুটবল দল কোন বড় টুর্নামেন্টে সফলতার দেখা পায়নি। ১৯৬৬ সালে ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেই ইংল্যান্ড পেয়েছিল একমাত্র সফলতা। জিতেছিল বিশ্বকাপ শিরোপা। কিন্তু তারপর থেকে গত ৫২ বছর ধরে শুধু হতাশই হতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। এবার ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে শিরোপা খরা কাটানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ব্রিটিশরা।

আর সেজন্য খেলোয়াড়দের প্রচণ্ড নিয়ম-কানুন, শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করছেন কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। তিনি মনে করেন, মাঠে পায়ের যাদু দেখানোর পাশাপাশি প্রতিদিন খেলোয়াড়েরা কি কি খাচ্ছেন সেগুলোতে সমান নজর দেওয়াটা জরুরি। আর তাই স্ট্যাফোর্ডশায়ারে ইংল্যান্ড দলের অনুশীলন ক্যাম্পের পাশে থাকা একটি দোকানের মেনু থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পিৎজা, মাফিন (একজাতীয় কেক), স্যান্ডউইচ আর সিরাপের মতো মজাদার সব খাবার।

এ সিদ্ধান্ত থেকে এটি পরিষ্কার যে, আর তিন মাস পরে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে গ্যারেথ সাউথগেট চান না তার দলের সদস্যদের গায়ে একটুও বাড়তি ওজন থাকুক। অথচ এই গ্যারেথ সাউথগেট নিজেই একসময় ছিলেন পিৎজা হাট-এর একজন বিজ্ঞাপন করা মানুষ।

ইংলিশ কোচ হিসেবে সাউথগেট অবশ্য প্রথম মানুষ না, যিনি খেলোয়াড়দের ওপর জারি করছেন বিচিত্র সব নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ। তাঁর আগেও অনেক কোচ নিষিদ্ধ করেছিলেন অনেক কিছু। বিবিসির প্রতিবেদন অবলম্বনে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু মজাদার নিষিদ্ধ তালিকা!

স্ত্রী ও প্রেমিকা

২০১০ সালে তৎকালীন ইংল্যান্ড দলের ম্যানেজার ফাবিও ক্যাপেলো দলের হোটেলে তাদের স্ত্রী ও প্রেমিকাদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যথাসম্ভব মনোযোগ না হারানোর মতো একটি পরিবেশ সেখানে রাখতে চান তিনি। সেসময় ক্যাপেলো বলেছিলেন,‘আমার মনে হয় আমরা যদি একটি দল তৈরি করি এবং সবাই মিলে একই সাথে জেতার মানসিকতা তৈরি করি, তাহলে সফলতা আসবে’। কিন্তু তার সে পদক্ষেপ তেমন কাজে দেয়নি। আয়োজক জার্মানি তাদেরকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বিদায় করে দেয় শেষ ষোলোর রাউন্ড থেকে।

স্ত্রী-প্রেমিকা ছাড়াও ক্যাপেলো টমেটো সস, মোবাইল ফোন এবং রাবারের স্যান্ডেল পরা নিষিদ্ধ করেছিলেন।

বীনি টুপি

খেলোয়াড় থাকাকালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের মিডফিল্ডার নিল লেনন একজন কঠোর মানসিকতার খেলোয়াড় ছিলেন। পরবর্তীতে কোচ হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করার পরেও সেই মানসিকতা অটুট থাকে।

বোলটন ওয়ান্ডারারসের কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর পর প্রথম অনুশীলনেই তিনি বীনি হ্যাট নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন। বীনি হ্যাট হলো শীত প্রতিরোধক এক ধরনের টুপি। আজব ব্যাপার হলো, এ ঘোষনা দেওয়ার সময়ে তার নিজের মাথাতেও একটা বীনি হ্যাট ছিল।

তিনি তার এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি চাইনা খেলোয়াড়েরা টুপি পরে প্রশিক্ষন নিক, কারণ মাঠে তারা টুপি পরে খেলতে নামবেনা। তাদের যদি উষ্ণ থাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে এদিক ওদিক দৌড়ে শরীর গরম করাই ভালো”।

ট্যাটু

জার্মানি ফুটবল দল ওয়ার্ডার ব্রেমেন তাদের সদস্যদের শরীরে ট্যাটু অংকন নিষিদ্ধ ঘোষিত করেছিল। তাদেরই শক্ত প্রতিপক্ষ এক দলের একজন খেলোয়াড়ের ট্যাটু করার পরে পরিনতি দেখে এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তারা।

হ্যামবার্গ-এর খেলোয়াড় এলজেরো এলিয়া শরীরে ট্যাটু করানোর পরে তা থেকে তার শরীরে ইনফেকশন হয়। ব্যাথার কারণে তিনি বেশ কিছুদিন খেলতে পারেননি। এটার পর ব্রেমেনের কোচ ক্লাউস অ্যালফ সে সময়ে বলেন, “আমি এই বিপদের ঝুকি নেব না। ফুটবল মৌসুমে কোন প্লেয়ার ট্যাটু করতে পারবেনা, এটাই মূল কথা। এ ঝুকি আমাদের এড়িয়ে চলতেই হবে”।

ব্যাকফ্লিপ

পর্তুগালের তারকা নানি-কে তার চিরচেনা ব্যাকফ্লিপ-এর মাধ্যমে গোল উদযাপন নিষিদ্ধ করেছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। নানি যে সফলতার সাথে গোল দিয়ে যাচ্ছিলেন দলের জন্য, তা নিয়ে ফার্গুসন খুশি হলেও এমন ঝুকিপূর্ন উদযাপন মোটেও পছন্দ হয়নি তার। তিনি আশংকা করতেন যে, এভাবে উদযাপন করতে গিয়ে দলের এই অন্যতম সেরা উইঙ্গার এর মাথায় আঘাত লাগতে পারে।