আর রোহিঙ্গা শরণার্থী নিতে পারব না: জাতিসংঘকে বাংলাদেশ

মায়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নিপীড়ণের শিকার হয়ে গত দেড় বছরে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। তবে মায়ানমার থেকে এর বেশি শরণার্থী গ্রহণ করা সম্ভব না বলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জানিয়েছে বাংলাদেশ। জানা গেছে আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে।

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম অধিবাসীদের যেভাবে নির্মমতার শিকার হতে হয়েছে, সেটাকে জাতিগত নিধন বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য আরও কিছু দেশ। মায়ানমার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো: শহিদুল হক জাতিসংঘের অধিবেশনে বলেছেন, ‘খুবই দুঃখের সঙ্গে এটা জানাতে হচ্ছে যে, মায়ানমার থেকে আসা আর কোনো মানুষকে আমরা জায়গা দেওয়ার মতো অবস্থানে থাকব না।’ রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আলোচনায় মায়ানমার শুধু ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি আর নানাবিধ প্রতিবন্ধকতামূলক আচরণ’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন শহিদুল হক। তিনি বলেছেন, ‘কোনোরকম সহায়তামূলক পরিবেশ না থাকায় একজন রোহিঙ্গাও রাখাইনে ফিরে যাওয়ার জন্য রাজি হচ্ছে না।’

মায়ানমার বলেছে যে তারা জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা বলছে যে তারা নিজেদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি চায় আর রাখাইনে ফেরার আগেই মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি চায়। নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি চায়। যুক্তরাজ্যের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ক্যারেন পিয়ার্স নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, ‘আমরা খুবই আশাহত হয়েছি… যে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি দেখে আমরা খুবই আশাহত হয়েছি। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব হয়নি যেখানে শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হবে।’

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা জীবন: বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরের কিশোররা

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বেশ কিছু সদস্য দেশ এমন পরিস্থিতি তৈরির তাগাদা দিয়েছেন যেখানে শরণার্থীরা নিরাপদে, নিজ ইচ্ছায় ও মর্যাদা নিয়ে মায়ানমারে ফিরতে পারবে। একই সঙ্গে তারা মায়ানমার সরকারকে বলেছেন রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের পূর্ণ ও শর্তহীন প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য। বর্তমানে মায়ানমারে জাতিসংঘের প্রবেশাধিকার ‘পর্যাপ্ত নয়’ বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত ক্রিস্টিন সার্নার-বার্গেনের।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে বিভক্ত হয়ে আছে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ। পশ্চিমা দেশগুলো মায়ানমারকে আরও চাপ প্রয়োগের পক্ষে। অন্যদিকে মায়ানমারের মিত্র চীন ও রাশিয়া এই প্রস্তাবের বিরোধীতা করে আসছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত হু হাইতাও বলেছেন যে এটা মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যকার একটি ইস্যু। আর ব্যাপারটা এই দুই দেশেরই মিমাংসা করা উচিৎ। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পোলিনাস্কি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের পর আসাম থেকেও শরণার্থী আসবে বাংলাদেশে?

গত ডিসেম্বরে মায়ানমারকে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে ও জবাবদিহি করতে বাধ্য করার জন্য একটা সময়সীমা বেঁধে নেওয়ার পরিকল্পনা খসরা করা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে। কিন্তু চীন ও রাশিয়া এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।