কৃষকের ধান সংকট সৃষ্টিতে দায়ী মধ্যসত্ত্বভোগীরা

ধানের বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ঈদের আনন্দ আসছে না তাদের ঘরে। ধান উৎপাদনের যে খরচ, তা তো উঠছেই না, বরং হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। কেন হচ্ছে এমনটা? অর্থনীতিবিদ ও ব্যাঙ্কার খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মতে, এখানে মধ্যসত্ত্বভোগীরাই প্রকৃত দায়ী। তিনি বলেছেন, ‘সরকারের মদদপুষ্ট কিছু মানুষ কৃষকদের বাধ্য করছে কম দামে ধান বিক্রি করতে। এতে করে তারা দ্রুত টাকা কামিয়ে নিচ্ছে… তারাই মধ্যসত্ত্বভোগী। তারা খুবই ক্ষমতাবান।’

আরও পড়ুন: ধান নিয়ে কৃষকের সঙ্কটের কিছু কারণ

মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্নর কৃষকদের প্রতি সমবায় সমিতি গড়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ায় খাদ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেন ইব্রাহিম খালেদ। এবং তাকে আরও দায়িত্বশীল আচরণের তাগিদ দেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে সভাটি আয়োজন করা হয়েছিল কয়েকটি এনজিও নিয়ে গঠিত সংগঠন রাইট টু ফুড বাংলাদেশ ও অ্যাকশনএইডের যৌথ উদ্যোগে।

সভায় বক্তারা সতর্ক করে দেন যে পরিস্থিতি এরকমই থাকলে আগামী মৌসুমে আমন ও বোরো ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যেতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের উচিৎ আরও অনেক বেশি পরিমাণে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা ও সেটা সংরক্ষণ করা। রাইট টু ফুড বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মহসিন আলী বলেছেন, ‘বর্তমান এই কম দামে হতাশ হয়ে পরের বছর কৃষক অনেক কম পরিমাণে চাষ করতে পারে। ফলে, এটা পরিস্কার যে ধানের দাম বেশি হবে।’ যার প্রভাবটা নিশ্চিতভাবে চালের দরেও পড়বে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সাবেক রিসার্চ ডিরেক্টর মো. আসাদুজ্জামান প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ধান ও চালের দামের মাঝে এত বড় একটা অংক কেন? সেই টাকাগুলো কোথায় যায়?’ বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ বোরো ধানের উৎপাদন বেশি হওয়া। আর যাদের কারণে এই সাফল্য সেই কৃষকদের সমস্যা সমাধানে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ বলে তাগাদা দিয়েছেন সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক।

সূত্র: Middlemen are the culprits