তাপপ্রবাহে ‘রান্না’ হচ্ছে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ!

দীর্ঘসময় ধরে সমুদ্রের উষ্ণতা বেশি থাকা মেরিন হিটওয়েভ নামে পরিচিত। এর ফলে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রীফ-এর জীববৈচিত্রকে। এমনই জানা গেলো ২০১৬ সালের তাপপ্রবাহ নিয়ে করা নতুন এক গবেষনা থেকে।

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৩,৮৬৩ টি আলাদা আলদা প্রবালপ্রাচীর গবেষনা করা হয়েছে। আর এই গবেষনায় দেখা যায় উষ্ণতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯% প্রবাল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় সেখানে ৯০% প্রবালই মৃত।

এমন ঘটনা তখনই ঘটে যখন অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে প্রবাল এর সাথে থাকা শৈবালের সাথে সমবায় সম্পর্ক হারিয়ে ফেলে। এই শৈবালই প্রবালকে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দিয়ে থাকে এবং প্রবালপ্রাচীরগুলো বিচিত্র রঙ ধারণ করতে সক্ষম হয়।

বিভিন্ন ধরনের প্রবালের মাঝে এমন কিছু জাত আছে যেগুলো তাপমাত্রার বৃদ্ধিতে খুব বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর ২০১৬ সালের মেরিন হিটওয়েভের কারণে তাই মারা পড়েছে প্রচুর ট্যাবুলার এবং স্ট্যাগহর্ন গোত্রের প্রবাল। এই জাতের প্রবালগুলোই প্রবালপ্রাচীরের কাঠামোর মূল অংশ।

২০১৬ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ২,৩০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে উপর থেকে প্রবালের পর্যবেক্ষন করেন টেরি হিউস এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষকের দল। এই পর্যবেক্ষন এর সাথে সমন্বয় করা হয় পানির নিচে ১০০ টিরও বেশি স্থানে করা পর্যবেক্ষনের ফলাফল। ডঃ স্কট হেরন নামের এক গবেষক বলেন,“আমরা অনেক প্রবালের দ্রুত মৃত্যু হতে দেখেছি”।

“এই প্রক্রিয়া সাধারণত প্রবালের খাদ্যাভাবের ফলে এক থেকে দুই মাস সময় ধরে হয়ে থাকে। একে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে রান্নার সাথে এর তুলনা করে”, জানালেন তিনি। তারা দেখলেন এসব ‘রান্না’ হওয়া প্রবালগুলো এক থেকে দুই সপ্তাহের মাঝে মারা যাচ্ছে।

এই এলাকার উত্তরাংশের ৭০০ কিলোমিটার এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে থাকা প্রবালপ্রাচীরের ৫০% মাত্র ৮ মাসেই বিলুপ্ত হয়েছে।

আরোগ্যের ক্ষণ

প্রবালপ্রাচীরের সকল অংশ কিংবা সব জাতের প্রবাল সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কয়েকটি জাত ভালোভাবে প্রতিকূল অবস্থা সামলাতে পেরেছে। আবার অনেকগুলো খারাপ অবস্থা থেকে নিজেদেরকে পুনরায় উদ্ধার করে নিয়েছে। ডঃ হেরন বলেন, “এখানে আরোগ্যের কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছে”।

প্রবালপ্রাচীরের অনেক অংশে প্রবালের নানান জাত বৈচিত্রের অবসান ঘটছে, যেগুলো টিকে থাকতে পারছে সেগুলোই থেকে যাচ্ছে। আর ট্যাবুলার প্রবালের মতো দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া জাত ধিরে ধিরে হয়ে উঠছে ধিরগতিতে বেড়ে ওঠা প্রবালের জাত হিসেবে।

২০১৬ সালের এই প্রবাল ধ্বংসের ঘটনা অন্যতম বড় একটি ঘটনা এবং এটি নিয়ে শংকিত ডঃ হেরন। তিনি বলেন, “প্রবালগুলো সেরে উঠতে যতখানি সময় দরকার সে সময়টুকু এগুলো পাচ্ছেনা, তার আগেই আবার শুরু হয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। এভাবে চলতে থাকলে এইসব প্রবালপ্রাচীর আর আগের মতো থাকবেনা”।

তিনি জানান, এখানে প্রবালপ্রাচীর থাকবে ঠিকই, কিন্তু সেই চিরচেনা দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রীফ আর থাকবেনা। সাউথহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জর্গ উইডেনমান একমত পোষন করেছেন এই ব্যাপারে যে, প্রবালের জগতে সামনে এক বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, যা ইতিবাচক নয়।