বিনা টাকায় ভ্রমণ: দেশে দেশে বাসচালকদের অভিনব প্রতিবাদ!‍

শুধু মিছিল-মিটিং কিংবা মানববন্ধনই না, প্রতিবাদের যে বিভিন্ন ধরণ-উপায় থাকতে পারে- সেটাই বিভিন্ন সময়ে দেখিয়েছেন বিভিন্ন দেশের বাসচালকেরা। সম্প্রতি যা দেখা যাচ্ছে জাপানের ওকাইয়ামা শহরে। অভিনব এক পন্থায় তারা প্রতিবাদ করছেন কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভ করতে কাজ থমকে দিয়ে রাস্তায় না নেমে তারা বরং তাদের কাজ ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন। শহরের যাত্রীদের পৌছে দিচ্ছেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে। কিন্তু প্রতিবাদ হিসেবে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো ভাড়া নিচ্ছেন না!

গত এপ্রিলে ওকাইয়ামা শহরে নতুন এক কোম্পানী অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় সেবাদান শুরু করলে রিওবি নামের এক বাস কোম্পানী এবং কর্মচারীদের মাঝে বিরোধ শুরু হয়ে যায়। চিন্তিত চালকেরা নিজেদের চাকরীর নিরাপত্তার জোর দাবি জানান বলে জানিয়েছে জাপানী গণমাধ্যম। তাদের এই দাবিতে সংহতি প্রকাশ না করায় চালকেরা বাসের টিকিট মেশিন বন্ধ করে দেন এবং যাত্রীদের কাছ থেকে কোনরকম ভাড়া নিতে অসম্মতি জানান।

তবে এমন প্রতিবাদ এটিই প্রথম নয়। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে ১২টি বাস ডিপো থেকে চালকেরা “ভাড়ামুক্ত দিবস” ঘোষণা করেন। সরকার তাদের সেবাগুলোকে ব্যক্তিমালিকানার অধীনে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে এভাবেই প্রতিবাদ হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ায়।

ব্রিসবেনের বাস চালকেরাও গত বছরের জুলাই মাসে একই ধরণের কাজ করেছিলেন। তাদের মজুরী বৃদ্ধির দাবি, বাসের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং আরো উন্নত সেবার দাবিতে এই প্রতিবাদে নেমেছিলেন তারা।

যাত্রীদেরকে স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে ভ্রমণের দ্বারা প্রতিবাদের ঘটনা বেশ পরিচিত। এর মধ্যে সবচেয়ে জোরদার আন্দোলন হয়েছিলো ব্রাজিলের ‘মোভিমেন্তো পাসে লিভরে’ (বিনা ভাড়া আন্দোলন)-তে। এর শুরু হয় ২০০৩ সালে ব্রাজিলের সালভেডর শহরে। যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদে রাস্তা আটকে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। সেই আন্দোলন গড়িয়ে ক্লাইম্যাক্সে পৌছায় ২০১৩ সালে যখন সমগ্র জাতি আন্দোলনে সাড়া দেয়। আর আন্দোলন কেবল বাড়তি ভাড়ার প্রতিবাদেই থেমে থাকেনি, তার সাথে যোগ হয়েছে দূর্নীতি এবং নিম্নমানের সরকারী সেবার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন তখন।

ক্ষুদ্র পরিসরে সুইডেনেও বিনা ভাড়ায় প্রতিবাদের প্রচলন হয়েছিলো যা চলেছে প্রায় দুই দশক ধরে। ২০০১ সালে প্লাঙ্কেনকারেজ এর মানুষের হাত ধরে তা শুরু হয়। ২০১৩ সালে নিউইয়র্কেও হয়েছিল এমন আন্দোলন। সাবওয়েতে অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য যাত্রীরা প্রতিবাদস্বরূপ অন্যান্য যানবাহন বেছে নিয়েছিলেন দৈনন্দিন জীবনে।

ওকাইয়ামা শহরে চালকেরা কাজ করে গেলেও, তাদের এই আন্দোলনের ফলে তারা সাধারণ যাত্রীদেরকে পাশে পেয়েছেন দাবি আদায়ের লড়াইয়ে।