‘শান্তির রুটি’: যুদ্ধ থামিয়েছিল যে সকালের খাবারটি!

হাজারো বছর আগের কথা। উত্তর আফ্রিকার আমাজিঘ গোষ্ঠীর দুই গোত্রের মধ্যে চলছিল ঘোর যুদ্ধ। সেই বিধ্বংসী যুদ্ধ থামানোর জন্য দুই পক্ষ বের করেছিল এক অভিনক শান্তিচুক্তি। যার একটি শর্ত ছিল এরকম যে, প্রত্যেক গোষ্ঠী একে অপরের জন্য সকালের নাস্তা বানাবে।

আর সেই এই ঐতিহাসিক নাস্তায় তারা খেয়েছিলো ‘আমারলাও’ নামের এক বিশেষ ধরনের রুটি। এখন এটিকে আফ্রিকানরা ‘শান্তির রুটি’ বলে ডেকে থাকেন।

এই শান্তির রুটির ইতিহাস প্রায় ১,২০০ বছর পুরাতন। আমাজিঘ গোষ্ঠির দুটি দল, যারা বার্বার নামেও পরিচিত, সে সময়ে সবসময় যুদ্ধে লেগে থাকতো।অবশেষে তারা শান্তিপূর্ন অবস্থায় এলে আয়োজন করা হয় এক সম্মিলিত সকালের নাস্তার। এসময়ে তারা আমারলাও রুটি দিয়ে নাস্তা করেছিল।

তারপর থেকে এই দিনটি উদযাপন করেন উত্তর আফ্রিকার মানুষেরা। তারা এটিকে ইদারনান উৎসব বলে থাকেন। প্রতি বছর জানুয়ারীতে নববর্ষের পাশাপাশি এটিও পালিত হয় সেখানে। আর এই দিনটিও আমাজিঘ গোত্রের ক্যালেন্ডারে নতুন বর্ষের দিন হিসেবেই চিহ্নিত।

ইদারনান উৎসবের দিনে সে দেশের মানুষের খাবারের তালিকায় থাকে ফেঞ্জ (এক ধরনের আটা দিয়ে তৈরি ভাজা পিঠা), আমলউ (কাঠবাদাম দিয়ে তৈরি একটি খাবার), মধু, খেজুর এবং সেই ঐতিহাসিক আমারলাও রুটি।

ইদারনান উৎসবের সময়ে লিবিয়া, আলজেরিয়া, তুনিশিয়া ও মরক্কোসহ উত্তর আফ্রিকার সর্বত্র সেই অতীতের মতো আমারলাও রুটি খেয়ে দিন শুরু করেন সকলে।

সেখানকার সব নারীই এ রুটি বানাতে পারেন। এই রুটি তৈরি করতে ময়দার সাথে লবন আর ইস্ট মিশিয়ে ময়ান তৈরি করে তা কিছুক্ষন রেখে দেওয়া হয়।তারপরে পাথরের তৈরি একটি চুলায় আগুন জ্বালিয়ে পাথরগুলো গরম করা হয়। গরম হয়ে গেলে সেই গরম পাথরের উপরে ঐ রুটিগুলো ছেড়ে দিয়ে ঝলসানো হয়। সকালের নাস্তায় এই রুটি মধু দিয়ে খেয়ে থাকেন সকলে।