যুদ্ধের আগুনে হাওয়া দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুয়া সংবাদ

চলতি সপ্তাহে ভারত ও পাকিস্তান যখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, তখন বেশ কিছু ভুয়া ভিডিও, ছবি আর লিখিত বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে উড়ে বেড়াচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের উত্তাপ-উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইন্ডিয়ান এক টিভি শো থেকে আহত পাইলটের একটি ফুটেজ এবং ২০০৫ সালের ভূমিকম্পের সময়ের ছবি নিয়ে চলমান যুদ্ধের ছবি ও ভিডিও বলে লাখ লাখ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে টুইটার, ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ-এর মত মাধ্যমগুলোতে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের বিমানহামলার পর থেকেই গুজবের ছড়াছড়ি শুরু হয়। চার দশকের মধ্যে দুই দেশের মাঝে এটিই এমন বড় কোন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ। ভারত জানিয়েছে কাশ্মীরে যে ক্যাম্পটি ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের দেশের ৪০ জন সেনার মৃত্যুর জন্য দায়ী সেই ক্যাম্পটি ধ্বংস হয়েছে এই হামলায়। তবে সেই হামলায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।

পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশ গত বুধবারে ঘোষণা দিয়েছে তারা একে অপরের যুদ্ধব্বিমান দেখলেই ধ্বংস করে দেবে। এর মধ্যে পাকিস্তান একজন ভারতীয় পাইলটকে আটক করেছে।

দুই দেশ থেকে যখন দাবি ও পাল্টা দাবি বিনিময় চলছে, তখন সামাজিক মাধ্যমগুলো গুজবের কারখানা হয়ে সামনে এসেছে। ভিত্তিহীন সংবাদ, ছবি আর ভিডিও দিয়ে ভরে গিয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো।

অল্ট নিউজ নামের একটি সত্য-মিথ্যা যাচাই এর ওয়েবসাইটের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রতীক সিনহা জানান বিভিন্ন সাংবাদিক ও আরো অনেক মানুষ তাদেরকে সামাজিক মাধ্যমে থাকা নানান সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। সিনহা বলেন, “গত মঙ্গলবার থেকে খুব চাপ শুরু হয়েছে। বাইরে প্রচুর গুজব ছড়াচ্ছে আমরা জানি। কিন্তু সেগুলোর প্রত্যেকটির সত্যতা যাচাই করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়”।

ভারতের বিজেপি-এর অমিত সাহাকে সমর্থন করে এমন একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে পাকিস্তানে ভারতের বিমানহামলার বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেসব ছবিতে দেখা যায় বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসাবশেষ এবং তার ভেতরে পড়ে থাকা লাশ। সেসব ছবি হাজার হাজারবার শেয়ার করেছে মানুষ। অল্ট নিউজ জানায় এই ছবিগুলো ২০০৫ সালের কাশ্মীর ভূমিকম্পের ছবি।

ভারতে কমপক্ষে ৪৫০ মিলিয়ন মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, তারা এমন গুজবের জোয়ারে হাবুডুবু খাচ্ছে। এসব ভুয়া সংবাদ থেকে উত্তাপ বাড়ছে, বাড়ছে অহেতুক বিক্ষোভ।

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টুইটারের পক্ষ থেকে এমন সমস্যা নিরসনের লক্ষে কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু আসন্ন মে মাসে যেহেতু ভারতের জাতীয় নির্বাচন, তাই এসব গুজব আরো বেশি রাজনৈতিক মাত্রা পাচ্ছে, ফলে সেগুলোর বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে দাড়াচ্ছে।

আরেকটি বার্তা খুব উড়ছে, যেখানে বিজেপি দাবি করছে যে ভারতীয় বিমানটি ধ্বংস হয়ে যায়নি, বরং যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় নিজ থেকেই ধ্বসে পড়েছে। তারা বিরোধীদল কংগ্রেস পার্টিকে দোষ দিচ্ছে তাদের সময়ে বিমানগুলোর সঠিক যত্ন না নেবার জন্য।

একইভাবে পাকিস্তানে দ্বিতীয় একজন ভারতীয় পাইলটের গ্রেপ্তারের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তবে সত্যতা যাচাইকারী ওয়েবসাইটগুলো বলছে যে এটি প্রকৃতপক্ষে বেঙ্গালোরের একটি টিভি শো এর ক্লিপ থেকে সংগৃহিত একটি ফুটেজ।

সূত্র: Social media fake news fans tension between India and Pakistan