এক একটি টুইট দিয়ে যেভাবে মানুষ যুদ্ধ থামাতে চাইছে

পারমাণবিক অস্ত্রধারী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন যুদ্ধের ধোয়া ঘন হচ্ছে, তখন দুই দেশের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম চেষ্টা করছে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের সেতু তৈরি করে আলাপের মাধ্যমে সমাধান করতে দ্বন্দের।

টুইটারে #SayNoToWar নামের এক ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে, এটি কে শুরু করেছে জানা যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে কাশ্মীরি সাংবাদিক সাগরিকা কিসসু এর অন্যতম প্রচারক ছিলেন। তিনি গত মঙ্গলবার লিখেছেন, “চলুন আমরা #SayNoToWar হ্যাশট্যাগটি ছড়িয়ে দেই। আমরা চাই না আর একটিও প্রাণ এভাবে মারা যাক। আমরা শান্তি চাই। যুদ্ধ কোনদিন কোন সমস্যার সমাধান করেনি। তা করতে পারবেওনা। ধন্যবাদ”।

ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের তারকা, রাজনীতিবিদ, ডানপন্থী সংগঠনগুলো, এবং সাধারণ জনগণ এই হ্যাশট্যাগের ব্যবহার করা শুরু করলে ধীরে ধীরে এটি বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিং হয়ে যায় এবং জায়গা করে নেয় টুইটার মোমেন্টে।

দ্য ডেটামাইনার-এর তথ্যমতে এখন পর্যন্ত এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ১২৮,৫০০ টি টুইট প্রকাশিত হয়েছে বিগত দুইদিনে। প্রতি দশ মিনিটে প্রায় ২,০০০ এর মত টুইট প্রকাশিত হয়েই চলেছে।

সাংবাদিক কিসসু কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি সিএনএন-কে এক সাক্ষাতকারে জানান যে, তার পরিবার ১৯৯১ সালে কাশ্মীর থেকে জাম্মু গিয়েছিলেন অস্থিতিশীলতার কারণে।

তিনি বলেন, “আমার ছেলেবেলা থেকেই আমি বিচ্ছেদ আর সংঘর্ষের গল্প শুনে বড় হয়েছি। আমার হৃদয় আর মগজে এগুলো গেথে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা যুদ্ধ লেগে যাবার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এখন অনেকে দেখছি দেশপ্রেমের নামে উগ্র জাতীয়তাবাদ দেখিয়ে প্রলয়ের দিকে ঠেলে দিতে চেষ্টা করছে দুই জাতিকে”।

তিনি জানান এই হ্যাশট্যাগ ছড়িয়ে দেবার মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করছেন সহিংসতার চাকা ভেঙ্গে দিতে। যাতে আরো দেরি হয়ে না যায়। তিনি বলেন, “সেনা আর প্রচুর নিষ্পাপ মানুষ সীমান্তে মারা যাবে। যুদ্ধ কেবলই ধ্বংস ডেকে আনে। ভারত এবং পাকিস্তানের উচিৎ নিজেদের আহত ইগো ঠিক করা এবং বসে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা”।

ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের তারকা ও রাজনীতিবিদেরা এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দেখা যায় বলিউডের সংগীতশিল্পী বিশাল দালদিনি পাকিস্তানী একটিভিস্ট তুবা সৈয়দ এর টুইটকে রিটুইট করেছেন।

ব্রিটিশ এমপি ইয়াসমিন কুরেশি এবং নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসাফজাই-ও এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে তাদের শান্তির আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছেন।

কিসসু জানান, কিছু উটকো মীম ও ট্রল বাদে সার্বিকভাবে এই ক্যাম্পেইনের প্রতিক্রিয়া বেশ ভালো ছিলো। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে। তিনি বলেন, “মানুষের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। মানুষের ইতিবাচক সাড়া পেয়ে এই হ্যাশট্যাগ যেন জীবন পেলো। আমি ভাবতেও পারিনি টুইটার এমন চমৎকার পরিবর্তন আনতে সক্ষম”।

সূত্র: How people are trying to end the India-Pakistan crisis one tweet at a time