কোনো চুক্তি ছাড়াই ভিয়েতনাম সামিট ছাড়লেন ট্রাম্প-কিম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া তাদের উপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করার কারণে কোনো ধরণের চুক্তিতে সম্মত না হয়েই ভিয়েতনাম সামিট থেকে সরে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি থেকে নিশ্চিত করে বলা হয়েছে যে, “এই মুহুর্তে কোন সমঝোতায় আসা যায়নি”।

“সম্মিলিত চুক্তি সাক্ষর উৎসব” এবং একত্রে কাজ করার উদ্যোগের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সেই বিবৃতির পরে ভিয়েতনাম রাজধানী হানোইয়ে সমাপ্ত হয়। গত বুধবার এবং বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং উনকে বেশ ইতিবাচক এবং আত্মবিশ্বাসী দেখানোয় ধারণা করা হচ্ছিল যে, কোনো সমঝোতায় আসা সম্ভব হবে। কিন্তু শেষমেশ যুক্তরাষ্ট্রের এমন বিবৃতি বেশ চমকে দিয়েছে সবাইকে।

ট্রাম্প বলেন, “উত্তর কোরিয়া বলছে তারা পারমানবিক দখল ছেড়ে দেবে। কিন্তু তার জন্য আমরা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারছিনা। তার নিশ্চিতভাবে কোন একটি লক্ষ্য আছে যা আমাদের নেই”। তিনি আরো বলেন, “পূর্বের চেয়ে আমরা আরো কাছে আসতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আরো সামনে এগিয়ে যাবো, তবে এইবারের ভ্রমণে তা সম্ভব হচ্ছেনা। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবারের মত সরে আসার”।

ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন যে দুই দিনের আলাপের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রের দখল থেকে সরে আসা এবং দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে অগ্রগতি ঘটেছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা এই সুসম্পর্ক ধরে রাখতে চাই। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি নতুন করে আর কোন নিউক্লিয়ার রকেট ও বোমা পরীক্ষা করবেন না। আমি তাকে বিশ্বাস করি এবং তার মুখের কথাতেই আমি আস্থা রাখছি। আশা করি তিনি সত্যি বলছেন। তবে এই মুখের কথায় ভিত্তি করে আজকেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করা বোকামী হবে। আমরা সকল কাগজপত্র ভালোভাবে পড়ে দেখেছি, এবং এই মুহুর্তে সেদিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হচ্ছেনা”। এই দুই নেতার পরবর্তীতে আর কবে দেখা হবে তা হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি।

দুই দেশের সংলাপের এমন ধ্বস দেখে প্রশ্ন জাগতে পারে যে ভিয়েতনাম সামিটকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিলো কিনা। ড্যানিয়েল পিংক্সটন নামের একজন কোরিয়া বিশারদ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত কোন চুক্তিতে আসার ব্যাপারটি পিছিয়ে দিয়েছে নাকি দেয়নি তা এখনো জানা কঠিন। কিন্তু আজ এমন তথ্য জানতে পেরে এটুকু বলতে পারি যে, এটুকু কাজের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পৃথিবীর অর্ধেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এতদূর না আসলেও হত”।

তিনি আরো বলেন, “তবে এধরণের কাজের প্রক্রিয়া সাধারণত উলটো দিক দিয়ে শুরু হয়। কর্মক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞেরা পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পাননি সব কাজ সম্পন্ন করার এবং তাই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমি মনে করি একটি বাজে চুক্তি স্বাক্ষর করার চেয়ে সেখান থেকে চলে আসা ভালো সিদ্ধান্ত। এর মানে হলো আমরা এখন এর থেকে নিচের পর্যায়ে জিনিসপত্র ঠিক করার জন্য কাজ করবো”।

মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইক পম্পেও মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়া ৩৬ ঘন্টা আগেও যেমন সম্পর্ক বজায় রাখতো তার চেয়ে ভালো অবস্থানে আসতে পেরেছে।

দুইদিনব্যাপী সংলাপে ট্রাম্প বারবার উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপারে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে দেশটির সম্ভাবনা আছে এবং তিনি চান তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে।

ট্রাম্প চেয়েছেন যেন পিয়ংইয়ং-এ বোমা পরীক্ষার ব্যাপারটি আপাতত বন্ধই থাকে, তবে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মুল করার ব্যাপারে অনেক তাড়া নেই। তারা চান উত্তর কোরিয়া যেন এক সময় অবশ্যই প্রলয়ংকারী অস্ত্র পরিত্যাগ করে এবং কিভাবে তা করা হবে সে বিষয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা জানায়।

এই দাবিগুলোর বিপরীতে কিম চেয়েছেন তার দেশের উপর থেকে যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোরিয়ান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে।

সূত্র: Trump, Kim leave Vietnam summit without agreement