থাইল্যান্ডে গাঁজাকে অর্থনৈতিক ফসল হিসেবে ঘোষণার দাবি

অনুতিন চার্নবিনাকুল মনে করছেন থাইল্যান্ডে মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিজয় লাভের সহজ পথ খুজে পেয়েছেন তিনি। সেই পথ হলো দেশটিতে গাঁজা চাষ বৈধ ঘোষণা করে দেওয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মেডিক্যাল মারিজুয়ানা বৈধতা পাবার প্রেক্ষিতে এই ঘোষণা দেন তিনি।

তার দল ভুমজাইথাই (থাই হয়ে গর্বিত) এর প্রচারণার পোস্টারে তারা প্রথমবারের মত একটি বড়সড় সবুজ গাঁজার পাতার ছবি ব্যবহার করেছেন এবং এটিকে বিনোদনের খাতিরে ব্যবহারের বিষয়টিকে উৎসাহিত করছেন।

বিলিয়নিয়ার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে যাওয়া এই ব্যক্তিটি রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা জানি গাঁজা খাওয়ার তেমন কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই। খেলে শুধু একটু একটু ঘুম আসে। আমরা যদি এর ভালো ও খারাপের দিকগুলো বিচার করি, তাহলে দেখা যায় যে এটিকে বৈধতা দেওয়াই শ্রেয়”।

থাইল্যান্ডে গত ডিসেম্বর মাসে মেডিক্যাল চিকিতসার জন্য ও গবেষণার জন্য গাঁজা ব্যবহার বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পৃথিবীর কঠোরতম মাদক আইন সমৃদ্ধ এক অঞ্চলের এক দেশে এমন সিদ্ধান্ত এই প্রথম থাইল্যান্ডই নিয়েছে।

অন্যান্য অনেক দলের মত ভুমজাইথাইও চাচ্ছে আসন্ন ২৪ মার্চের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসতে। ২০১৪ সালের পর এটিই দেশটিতে নির্বাচনের আয়োজন।

এই নির্বাচনে এই প্রস্তাবের পাশাপাশি ভুমজাইথাই আরো বলেছে সপ্তাহে চারদিন কর্মদিবসের কথা এবং দেশটিতে রাইড-শেয়ারিং ট্যাক্সি সার্ভিস চালু করার কথা। তাদের একটি ক্যাম্পেইন ওয়েবসাইটে দেখা যায় সবুজ গাঁজা ক্ষেতের ভিতর থেকে সোনার মুদ্রা বেরোচ্ছে আর কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি।

অনুতিন ক্যালিফোর্নিয়ায় চলমান আইনটিকে বেশ পছন্দ করেন। সেখানে গাঁজা চাষীরা রেজিস্ট্রেশন করে থাকেন এবং প্রত্যেকের বাড়িতে সর্বোচ্চ ছয়টি গাঁজা গাছ লাগানোর অনুমতি রয়েছে।

গাঁজা বিক্রি সংক্রান্ত আইন থাইল্যান্ডে চলমান তামাক আইনের মতই হবে বলে জানান তিনি। কৃষকেরা তাদের উতপাদিত গাঁজা সরকারী কোন সংস্থার মাধ্যমে বিক্রী করবেন।

তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়, “গাঁজা কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস তৈরি করবে। দেশের বাইরে প্রতি কেজি গাঁজা তারা ৭০,০০০ বাথ (২,২৩০ মার্কিন ডলার) দামে বিক্রি করতে পারবেন”।

অনুতিন মনে করছেন এটি থাই জনগণ এবং সরকার দুইয়ের জন্যই লাভজনক, কারণ তারা গাছ লাগাতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে উন্নয়ন আসবে।

গাঁজা অনুরাগীরা মনে করছেন দেশটিতে গাঁজা চাষের প্রচলন শুরু হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। অনেকে মনে করছেন থাইল্যান্ডের গাঁজা প্রতিযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় উৎপাদিত গাঁজাজাত পণ্যের সাথে। কারণ এই দুই দেশের ইতিমধ্যেই একটি চলমান বাজার রয়েছে।

থাইল্যান্ডে ১৯৩৪ সালে নিষিদ্ধ হবার পূর্বে বিভিন্ন ঔষধ তৈরি ও রান্নার কাজে গাঁজা ব্যবহৃত হত। গত কয়েক দশকে আরো কঠোর আইনের কারণে গাঁজা চাষ খুব ট্যাবু হয়ে গিয়েছে দেশটিতে।

দেশটির সংসদ কমিটির চেয়ারম্যান সোমচাই সাওয়াংকার্ন জানান, ডিসেম্বরের ক্যানাবিস বিলে ক্যান্সার রোগী ও অন্যান্য রোগীদের সাহায্যের লক্ষ্যে গাঁজা বৈধ করা হয়েছিলো। গাঁজার উপর আইনের কাঠিন্য আরো কমাতে হলে আরো সুদীর্ঘ পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।