বিশ্বজুড়ে হুমকিতে গণতন্ত্র; বাড়ছে স্বৈরাচারী শাসনের প্রবণতা

পৃথিবীর তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ বর্তমানে এমন সব দেশে বাস করছেন, যেখানে গণতন্ত্র হাটছে পিছনের দিকে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, তুরষ্ক, ব্রাজিল, পোল্যান্ড, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র, এমনটাই জানালেন গবেষকেরা।

তারা বলেছেন, “২০১৭ সালের এই সময়ে যদিও বেশিরভাগ মানুষ গণতন্ত্রের স্বাদ পাচ্ছে, তবুও বিশ্বের অন্তত ২৪ টি দেশের প্রায় ২.৬ মিলিয়ন মানুষ গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত”। স্বৈরাচারী শাসনের দিকে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে দেশগুলো। বিশেষ করে পশ্চিম এবং পূর্ব ইউরোপের দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি

সুইডেনের গথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যানা লারম্যান বলেছেন, “গণমাধ্যমের অসৎ ব্যবহার, মুক্তচিন্তায় বাধা এবং আইনের অবস্থা ক্রমেই দানা বাধছে। এসব কারণে বিশ্বজুড়ে নির্বাচনী ব্যবস্থা অর্থহীন হয়ে পড়ছে”।

এই ধরণের দেশগুলোর নাগরিকেরা উন্নত জীবনযাত্রার দিকে ধাবিত মানুষের চেয়ে সংখ্যায় বেশি। এই ধারার বাইরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অঞ্চল আফ্রিকা অঞ্চল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা চমৎকার গণতন্ত্রের প্রয়োগ দেখিয়েছে।

এই গবেষণাটি ভ্যারাইটিস অফ ডেমোক্রেসি (ভি-ডেম) এর একদম সাম্প্রতিক তথ্যাবলীর উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন বিশ্বের ৩,০০০ জন বিশেষজ্ঞ। তারা সকলে সম্মিলিতভাবে প্রচুর পরিমাণে তথ্য একত্রিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে, যেখানে মিলবে আজ হতে অর্ধশত বছর আগের তথ্যও।

এই ডেটাবেসে প্রায় ১৮০ টি দেশকে চারটি ভাগে ভাগ করে তাদের নানান পরিবর্তন লক্ষ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গভীরভাবে লক্ষ করা হয়েছে দেশগুলোর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বলিষ্ঠতা।

উদার গণতন্ত্রের দেশগুলোতে দেখা যায় যে দেশের নির্বাচন সুষ্ঠ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একটি নিরপেক্ষ গণমাধ্যম, বলিষ্ঠ আইন এবং নানান আইনী শাখাগুলো।

এরপরে আসে নির্বাচনী গণতন্ত্র। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে এইসব নীতিমালা শক্তিশালী শাসনের বিরুদ্ধে তেমন কাজের নয়। নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হলেও নয়।

স্রোতের বিপরীতে আফ্রিকা

গত বছর পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠী উপরোক্ত দুটির যেকোন একটি ব্যবস্থার ভিতর দিয়ে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু উদার গণতন্ত্রের অধীনে বাস করেছে মাত্র ১৪% জনগণ।

নির্বাচনী গণতন্ত্রের দেশগুলোতে সুষ্ঠ নির্বাচন দমিয়ে রাখা হয়েছে কঠোর বিরোধ, সেন্সরশিপ এবং ক্ষমতার দাপট দিয়ে। আর নিপীড়নের নির্বাচনের শীর্ষে রয়েছে স্বৈরশাসন বা একনায়কতন্ত্র।

গত এক দশকে ২০ টি দেশ ভি-ডেম র‍্যাংকিং এ এক ধাপ নিচে নেমে গিয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চারটি দেশ রয়েছে এই তালিকায়- হাঙ্গেরী, পোল্যান্ড, লিথুয়েনিয়া এবং স্লোভাকিয়া, এই চারটি দেশই উদার থেকে নির্বাচনী গণতন্ত্রের দলে ভিড়েছে।

ইসরাইল, মরিশাস এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেছে গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে অনেক দূরে।

যে ১৭টি দেশ এই তালিকায় ২০০৮ সাল থেকে উপরের দিকে উঠেছে, তার মধ্যে কেবল তুনিশিয়াই স্বৈরশাসন থেকে উদার গণতন্ত্রে বিবর্তিত হয়েছে।

সাব-সাহারান আফ্রিকার চারটি দেশ- গিনিয়া বিসাউ, আইভরি কোস্ট, মালাউই এবং নাইজেরিয়া নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র থেকে নির্বাচনী গণতন্ত্রে উন্নীত হয়েছে।

বৈশ্বিকভাবে অবশ্য সমাজে বসবাসকারী মানুষেরা ক্রমেই গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে চলেছে। তবে ব্যতিক্রম দেখা যায় মধ্য ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়ায়, যেখানে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের পরে বিশাল পরিবর্তন দেখা যায়।

এই গবেষণায় আরো দেখা যায় যে, যেসব দেশে ধনী উচ্চশ্রেণীর হাতে অধিক রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকে সেসব দেশে প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষ বাস করছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও অন্তর্গত।