সংকটে টলোমলো, বিক্ষোভে উত্তাল আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের আসরে বেশ দুরাবস্থাই চলছে আর্জেন্টিনার। রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি লিওনেল মেসির দল। আজ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জিততে না পারলে হতাশাজনক বিদায়েরও আশঙ্কা আছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের।

শুধু বিশ্বকাপের মঞ্চেই না। দেশটির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও চলছে চরম দুরাবস্থা। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কাছ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণসাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে আর্জেন্টিনার সরকার। কিন্তু ব্যাপারটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না দেশটির সাধারণ মানুষ। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয়েছে পুরো দেশজুড়ে। এতে প্রায় থমকে গিয়েছিল রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সসহ পুরো আর্জেন্টিনা।

বুয়েন্স আয়ার্সের ধর্মঘটে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সব ধরণের পরিবহন ব্যবস্থা। রাজধানীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য সড়ক যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ জনগন। বন্ধ ছিল বিমান পরিবহন ব্যবস্থাও।

চলতি মাসের শুরু থেকেই বড় ধরণের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। দেশটির মুদ্রা, পেসো পড়েছে বিপর্যস্ত অবস্থায়। এই রকমের পরিস্থিতিতে আইএমএফ ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণসাহায্য দিতে রাজি হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। এই ঋণের সঙ্গে অবশ্য থাকবে অনেক শর্ত-সুপারিশ। যেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আর্জেন্টিনার মানুষকে যেতে হবে কৃচ্ছসাধনের মধ্য দিয়ে। এই উদ্যোগটাই সবার জন্য প্রয়োজনীয় আর ধর্মঘটে কোনো সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও মাসরি। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অর্থনীতি আবার সমৃদ্ধির দিকে যাবে। কিন্তু সেজন্য আমাদের একসঙ্গে বসে ঠিক করতে হবে যে, কার কোনটা কাজ।’

কিন্তু সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দিতে নারাজ দেশটির শ্রমিক সংগঠনগুলো। জেনারেল কনফেডারেশন অব ওয়ার্কার্স-এর নেতা কার্লোস আকুনা বলেছেন, ‘আমাদের সামনে একটা নতুন সুযোগ আছে। আশা করব সরকার আজ বুঝতে পেরেছে যে, ধর্মঘট মানে কী।’

আইএমএফ-এর সঙ্গে আর্জেন্টিনার সম্পর্কটা বেশ জটিল। দেশটির অনেকেই দেশের এই টলোমলো অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন আইএমএফকে। ১৭ বছর আগে আর্জেন্টিনাকে ঠিক একইভাবে ঋণ দিয়েছিল আইএমএফ। সেগুলোর জের এখনও টানতে হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের। এখনও ইউনিয়নের নেতারা বলছেন যে, আইএমএফ যে ধরণের জীবনযাপন-কৃচ্ছসাধনের দাবি তুলছে তাতে দেশের দরিদ্র মানুষের দুর্দশা আরও বাড়বে।