স্কুলপড়ুয়াদের আন্দোলনের মুখে অস্ট্রেলিয়া সরকার

এবছরের জুলাই-আগস্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন করেছিল বাংলাদেশের স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোর শিক্ষার্থীরা। নানাবিধ অসন্তোষ ও দাবিদাওয়া নিয়ে কিশোররা সোচ্চার হতে শুরু করেছে বিশ্বের আরও অনেক প্রান্তে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে এসেছিল জলবায়ু পরিবর্তনে কার্যকর কোনো সরকারী পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে। জানা যায় রয়টার্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে।

গত শুক্রবারে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ার হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে আসে। তারা নিজেদেরকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে- একজন মন্ত্রী এমন এক মন্তব্য করার পর আরও তেতে উঠেছিল শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকেরা সিডনীতে দুপুরে জড়ো হয়ে “স্কো মো হ্যাস টু গো” শ্লোগান তোলেন। স্কো মো বলতে তারা প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে বুঝিয়েছেন।

মেলবোর্ন, ব্রিসবেম, পার্থসহ আরো কয়েকটি জায়গায় একই ধরণের আন্দোলন হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্যানবেরাতে আন্দোলন হওয়ার পরে এমনটি শুরু হয় আরো অনেক জায়গায়।

ইউনিফর্ম পরিহিত এই আন্দোলনের একজন আন্দোলনকারী বলেন, “এটি তো কেবল শুরু মাত্র, এটি আমাদের প্রথম আন্দোলন। আমাদের প্রথম বিদ্রোহ। আমরা আরো অনেক আন্দোলন চালিয়ে যাবো যতক্ষন না কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে”।

কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট চালানোর কারণে অস্ট্রেলিয়া প্রচুর পরিমাণে কার্বন নিঃসরন করে থাকে। এ বছরের শুরুর দিকে দেশটির সরকার জাতিসংঘের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে নিজেদের প্রতিশ্রুতি আরো কমিয়ে এনেছে।

মরিসন এই আন্দোলনের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে তিনি চান স্কুলে শিক্ষা বেশি হোক এবং আন্দোলন কম হোক। মন্ত্রী ম্যাট ক্যানাভান বলেন যে এই আন্দোলন শিক্ষার্থীদেরকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ক্যানাভান এক রেডিও ইন্টারভিউতে বলেন, “স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে যেয়ে আন্দোলন করার মাঝে কোন শিক্ষনীয় কিছু নেই। আন্দোলনে না গিয়ে দুঃখী মানুষের সারিতে দাড়ালেই পারে, কারণ ওদের ভবিষ্যত ওইরকমই”।

কিন্তু শিক্ষক এবং অভিভাবকেরা বলছেন যে এই আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু শিখবে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর মা মারিয়া বলেন, “ক্লাসরুমে বসে থাকার চেয়ে এই আন্দোলন কোন অংশে কম শিক্ষনীয় নয়। আমি মনে করি এ থেকে বাচ্চারা কিভাবে আরো সক্রিয় হতে হয় তা শিখবে এবং তাদের কিছু সরাসরি ক্ষতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিখবে”। মারিয়া তার নয় বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আন্দোলনে এসেছেন।