চার্লি সেজে চ্যাপলিনের জন্মদিন পালন!

চিরচেনা এক টুপি মাথায় দিয়ে আর নকল গোঁফ লাগিয়ে হাতে একটি লাঠি নিয়ে শত শত ভক্ত এ সপ্তাহে উদযাপন করলেন কমিক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের জন্মদিন। প্রতি বছর ১৬ এপ্রিল ভারতের পশ্চিম দিকে অবস্থিত গুজরাটের আদিপুর শহরের বাসিন্দারা এই মূকাভিনেতার সম্মানে তার জন্মদিন পালন করেন। আর এই উদযাপনের সময়ে তারাও সাজেন তাদের প্রিয় চার্লি চ্যাপলিনের আদলে। জানা গেছে এএফপির এক প্রতিবেদনথেকে।

এই উৎসবে অংশ নেওয়া সকল শিশু-বৃদ্ধ আর নারী-পুরুষ, সকলেই চার্লি সার্কেল নামের একটি ক্লাবের সদস্য। এটি চার্লি চ্যাপলিনের একটি স্থানীয় ভক্তদের ক্লাব যা ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতি বছর চার্লির জন্মদিন ঘটা করে পালন করে আসছে। চার্লি চ্যাপলিন অনুরাগী এবং অনুসরনকারী অশোক আশ্বনী এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা।

৭০ এর দশকে অশোক সাইকেল চালিয়ে নিজের কর্মক্ষেত্রের দিকে যাচ্ছিলেন, এবং যাওয়ার পথে তিনি দেখলেন চার্লি চ্যাপলিনের ১৯২৫ সালের হিট“দ্য গোল্ড রাশ” চলচ্চিত্রটি দেখানো হচ্ছে একটি থিয়েটারে। তিনি টিকিট কিনে ঢুকে পড়লেন সেটি দেখতে। ঢুকেই তিনি এই চরিত্রকে খুব পছন্দ করে ফেলেন আর পরপর সেদিন তিনটি প্রদর্শনী দেখেন কাজ ভুলে। পরের দিন তিনি চাকুরিচ্যুত হন।

অশোক বুঝতে পারলেন, চার্লি চ্যাপলিনের ভাবভঙ্গি অনুকরন করতে তার খুব ভালো লাগে। আর তখন থেকেই তার এই আসক্তির শুরু। অশোক বলেন, “আগে আমি একাই কেক কেটে তার জন্মদিন পালন করতাম। কিন্তু তারপরে প্রতিবেশিরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো যে আমি কি করছি। আমি তাদেরকে তখন চার্লি চ্যাপলিন সম্পর্কে জানাই। ধীরে ধীরে তারা আমার সাথে যোগদান করে। আর সে সংখ্যা বাড়তেই থাকে”।

অশোকের বয়স বর্তমানে ৭০ বছর। তিনি পেশায় একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তার। তিনি জানিয়েছেন, বিগত ৪৪ বছর ধরে তিনি চ্যাপলিনের জন্মদিন পালন করে আসছেন। এই বছর ছিল এই আয়োজনের ৪৫তম বছর।

গত সোমবারে আনুমানিক ৩০০ জন অশোকের সাথে যোগ দেন চার্লি চ্যাপলিনের ১২৯তম জন্মদিনের র‍্যালীতে। যা শুরু হয়েছিল একজন মানুষের হাত ধরে, তা আজ শহরটিতে এক জাকজমকপূর্ণ উৎসব।

এই র‍্যালীতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা চার্লি চ্যাপলিনের মতো করে কুঁচকানো স্যুট আর অপরিপক্কের মতো করে গলাবন্ধনী পরে থাকেন। চ্যাপলিনের বিখ্যাত গোঁফ অনেকে কালো কালি দিয়ে আকিয়ে নেন, অনেকে আবার নকল গোঁফ লাগান নাকের নিচে।

শিশুরা চার্লি চ্যাপলিনের মুখোশ পরে আনন্দ করে। অনেকের হাতে থাকে বিশাল আকৃতির চ্যাপলিনের ছবি। তারা সকলে মিলে ট্রাকে চড়ে বলিউডের জনপ্রিয় সব গান ছেড়ে দিয়ে নাচে-গানে-রঙ্গে উল্লাস করে বেড়ান শহরজুড়ে।

অশোকের নাতি তালিন মাভানি বলেন, “আমার বয়স যখন চার বছর, তখন থেকে আমি অভিনয় করি। আমার মনে আছে খুব ছোটবেলায় আমি চার্লি চ্যাপলিন সেজে একটা উটের পিঠে চড়েছিলাম। আমরা প্রতি বছর এই দিনটি এমনভাবে পালন করি যেন মনে হয় আমার কিংবা আমার দাদারই যেন জন্মদিন”।

১৮ বছর বয়সী তালিন শিঘ্রই তার দাদার এই সংগঠনের হাল ধরতে যাচ্ছেন। চার্লি সার্কেল-এর হবু সভাপতি তিনি। তালিন জানান, তাদের এই ক্লাবে সব ধরনের মানুষই আছে। এখানে সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের বয়স মাত্র দুই বছর, আর সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষটি ৭০ বছর বয়সী।