বাও: পিক্সারের প্রথম নারী নির্মিত অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র

গল্পটি খুব সাদামাটা কিন্তু মধুরঃ এক বৃদ্ধা একাকী চাইনিজ মায়ের মাতৃত্ব পুনরায় জেগে উঠলো, কারণ তার হাতে বানানো একটি ডাম্পলিং (খাদ্যবিশেষ) হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

‘বাও’ নামের এই স্বল্পদৈর্ঘের চলচ্চিত্রটির একটি ছোট ট্রেলার ছেড়েছে ডিজনী পিক্সার। এটি নির্মান করেছেন চাইনিজ-কানাডিয়ান পরিচালক ডমি শি। এনিমেশনের জগতে বিখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে এই প্রথম কাজ করলেন একজন নারী পরিচালক। জানা গেছে বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে।

এই বিশিষ্ট স্টোরিবোর্ড শিল্পী (এবং স্বঘোষিত খাদ্য অনুরাগী) তার এই কাজকে বর্ননা করেছেন একটি আধুনিক রূপকথার গল্প হিসেবে। সেই পুরাতন জিঞ্জারব্রেড ম্যান এর নতুন রূপ হলো বাও, এমনটাই জানালেন শি।

তিনি বলেন, “এই বৃদ্ধা মা তার জীবনে হঠাত নেমে আসা অদ্ভূত এই আনন্দকে সাদরে বরণ করে নেন। কিন্তু এই জীবন্ত ডাম্পলিংটি দ্রুত বেড়ে উঠতে শুরু করে। মা এর মাঝে উপলব্ধি আসে যে, কোন কিছুই চিরকাল ছোট আর সুন্দর থেকে যায়না”।

চলচ্চিত্রটির ভাব বোঝাতে গিয়ে পিক্সার এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই চলচ্চিত্রে একজন শিশু ও পিতা-মাতার সম্পর্কের উত্থান-পতন তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

শি এর মা একজন চাইনিজ-কানাডিয়ান প্রবাসী। তিনিও এই চলচ্চিত্রের পিছনে শ্রম দিয়েছেন। চলচ্চিত্রটির ‘সাংস্কৃতিক পরামর্শকারী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তিনি খুব চমৎকার ডাম্পলিং বানাতে জানেন, আর তার এই গুণের অনুকরনের ফলেই চলচ্চিত্রের এনিমেশনে ডাম্পলিং বানানোর ব্যাপারটি নিখুঁতভাবে দেখানো সম্ভব হয়েছে।

পিক্সারের চলচ্চিত্র নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় উঠবে এটাই স্বাভাবিক। এসব চলচ্চিত্রে ডিটেইল খুব চমৎকার হলেও মাঝে মাঝে তা সমালোচনার শিকারও হয়ে থাকে।

‘লাভা’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘের চলচ্চিত্র পিক্সার মুক্তি দিয়েছিলো তাদের ব্লকবাস্টার হিট ‘ইনসাইড আউট’ এর মুক্তির কিছুদিন আগে। ‘লাভা’-তে দেখানো হয়েছে যে প্রসান্ত মহাসাগরের কোন এক স্থানে অবস্থিত দুটি আগ্নেয়গিরি একে অপরের প্রেমে পড়ে। এই চলচ্চিত্রের গল্প অনেকের কাছেই গ্রহনযোগ্যতা হারিয়েছে। তাছাড়া এতে লিঙ্গের উপস্থাপনা এবং এর ভৌগলিক তথ্যের যথার্থতা নিয়েও বেশ সমালোচনা হয়েছে। তাছাড়া এনিমেশন ও কার্টুনের জগতে মেক্সিকোর সংস্কৃতি এবং মেক্সিকোর মানুষদেরকে নিয়ে প্রায়ই বৈষম্যমূলক কৌতুক করা হয়ে থাকে, যা বেশ নিন্দনীয়। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কোকো’ চলচ্চিত্রে এমনটি হয়েছে কিনা তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একইভাবে এশিয়ান কোন বিষয়কে তুলে ধরা নিয়েও বিনোদন জগতে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়ে থাকে। এশিয়ান কিংবা এশিয়ান-আমেরিকান অভিনেতারা যথেষ্ট সুযোগ পাননা হলিউডে, এমন অভিযোগ রয়েছে।

তবে ইন্সটাগ্রামে ‘বাও’ এর প্রথম ট্রেলার দেখে বেশ আনন্দিত ভক্তকূল। সে আনন্দ কেবলই একজন নারী নির্মাতার হাতে তৈরি চলচ্চিত্র বলেই নয়, সেই নারী এশিয়া বংশোদ্ভূত হওয়াও এক উপলক্ষ।